Foto

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বন্ধু


এই বিশাল পৃথিবীতে মানুষের অনেক বন্ধু থাকতে পারে। তবে সবাই ভালো বন্ধু হতে পারে না। বন্ধুরা অনেক সময় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আমাদের ক্ষতি করতে পারে।


কিন্তু বইবন্ধু আমাদের ক্ষতি করে না, বরং বিপদে উপকার করে। তাই আমাদের প্রচুর বই পড়া উচিত। বই মানুষের সবচেয়ে দামি সম্পদ। এই বিশাল পৃথিবীতে বইয়ের চেয়ে দামি সম্পদ আর নেই।

কেউ যদি জ্ঞানের দিক থেকে উন্নত হতে চায়, তাহলে অবশ্যই তাকে ভালো বই পড়তে হবে। কেউ উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে চাইলে বইয়ের সাগরে ডুব দিতে হবে। কারণ এতে থাকে চরিত্র গঠনের সঠিক দিকনির্দেশনা।

আমাদের সমাজে অধিকাংশ মানুষের বই পড়ার প্রতি তেমন আগ্রহ নেই। ফলে তাদের আত্মার জাগরণ সম্ভব হয় না। বই মানুষকে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য শেখায়। একজন বইপ্রেমী জগতের শ্রেষ্ঠ মানব। কারণ সে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ বইকে হৃদয়ে স্থান দিয়েছে।

আমাদের সবার নিয়মিত বই পড়া উচিত। প্রতিটি পরিবারে একটি করে লাইব্রেরি থাকা উচিত। সেখানে থাকতে হবে বিভিন্ন ধরনের বই। এর ফলে পরিবারের সদস্যরা সহজেই বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। সবার হৃদয়ে জ্ঞানের আলো প্রবাহিত হবে। বই পড়ার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি সব বিষয়ে কম-বেশি জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

আর এই অর্জিত জ্ঞান দিয়ে সে যে কোনো বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি নেই। যেসব প্রতিষ্ঠানে আছে সেসবেও বইয়ের সংখ্যা খুবই কম। লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি করে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সেখানে থাকতে হবে পাঠ্যবইসহ শিশুদের পছন্দসই নানা ধরনের বই। ছোটরা গল্পের বই পড়তে খুব ভালোবাসে। গল্পের বই পড়লে ছোটদের মানসিক বিকাশ দ্রুত হয় এবং বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ে। এছাড়া ধর্মীয় বইও রাখতে হবে। তাহলে ছোট থেকেই তারা ধর্মীয় আচার-আচরণ শিখে ধীরে ধীরে নিজেদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।

দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যেসব লাইব্রেরি রয়েছে সেগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। পর্যাপ্তসংখ্যক বই না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা বই পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখায় না।

লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত বই থাকলে শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দমতো বই পড়তে পারে। কিন্তু বই না থাকলে পড়বে কীভাবে? কীভাবে জ্ঞানের সমুদ্রে ডুব দেবে? সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন বই সরবরাহ করা উচিত। এছাড়া লাইব্রেরির সার্বিক উন্নয়নে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

দেশের বইমেলাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের বইয়ের সমাগম ঘটে। পাঠকরা নিজেদের রুচিমতো বই কিনে নেয়। আবার অনেকে মেলায় ঘুরতে যায়। এই ঘুরতে যাওয়াটাও একটি মহৎ গুণ। এটা বই কেনার প্রতি আগ্রহ জাগায়।

হাজার হাজার বই থেকে একটি বই ভালো লেগে যেতে পারে। তাই বলব, কেউ বই পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলেও তার বইমেলায় ঘুরতে যাওয়া উচিত।

বইয়ের প্রতি ভালোবাসা মহৎ ব্যক্তির প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কাজেই আমাদের বই পড়তে হবে এবং বইকে ভালোবাসতে হবে। বইকে ভালোবাসতে পারলে জীবন হবে সার্থক ও সুন্দর।

Facebook Comments

" লেখাপড়া " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ