Foto

পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না যে কারণে


চলচ্চিত্র নির্মাণে নির্মাতা-অভিনয় শিল্পী ও অন্যান্য কলাকুশলীর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করার নিয়ম রয়েছে। নাটক নির্মাণে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি ছিল না আগে। তবে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে টেলিভিশন নাটকের প্রোগ্রাম প্রডিউসারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ডিরেক্টরস গিল্ড এবং অভিনয়শিল্পী সংঘ একটি সমঝোতা স্মারক সই করে।


যার ফলে নাটক নির্মাণের বেলায়ও একটি চুক্তি সইয়ের নিয়ম চালু করা হয়। সেপ্টেম্বর ২০১৭ থেকে এই সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা কারণে ২০১৭-১৮তে এটি বাস্তবায়ন হয়নি। আশার খবর হলো, নতুন বছরের শুরুতে টেলিভিশনের ছয়টি সংগঠন আবারো এটি বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নিয়ে বাস্তবায়ন করেছে। নতুন বছরের শুরুতে উত্তরার শুটিং হাউসে দুটি নাটকের শুটিং হয় চুক্তিপত্রে সই করে।
দুটি নাটকের নির্মাতা হচ্ছেন শিহাব শাহীন এবং মিজানুর রহমান আরিয়ান। অভিনয় শিল্পীর মধ্যে তাহসান, নাদিয়া ও ইন্তেখাব দিনার চুক্তিপত্রে সই করেন। চুক্তিপত্রে সইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি সালাহউদ্দিন লাভলু, সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলীক, সহসভাপতি বদরুল আলম সৌদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন হোসেন এবং অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম ও টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সাধারণ সম্পাদক এজাজ মুন্না। এছাড়া ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশন, টেলিভিশন মেকআপ আর্টিস্ট এসোসিয়েশন ও শুটিং হাউস এসোসিয়েশনের নেতারা সে সময় উপস্থিত ছিলেন। এরইমধ্যে নতুন বছরের কয়েক দিন কেটে গেল। এই সময়ে বেশ কিছু নাটকেরও শুটিং শেষ হয়েছে। কিন্তু এসব নাটকের অনেক নির্মাতা-অভিনয় শিল্পী ও কলাকুশলী চুক্তিপত্র না করেই শুটিং করেছেন। বেশ কিছু কারণে তারা চুক্তিপত্র না করেই শুটিং করছেন বলে জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্মাতা বলেন, আমার ইচ্ছে ছিল চুক্তিপত্র করেই শুটিং করবো। কিন্তু করা হয়নি। সত্যি বলতে, প্রযোজক যদি না চান তাহলে শিল্পীর সঙ্গে চুক্তি করবো কীভাবে? শুটিং স্পটে তো চুক্তি করার মতো সময় থাকে না। এছাড়া অনেক শিল্পীও এখনো চুক্তির বিষয়ে আগ্রহী না। এই প্রসঙ্গে নির্মাতা সাগর জাহান বলেন, আমাদের অনেক নির্মাতা-অভিনয় শিল্পী চুক্তির বিষয়ে অবগত না। এটির উপকারিতা কী সেই বিষয়েও তাদের ভালো জ্ঞান নেই। আমাদের টিভি নাটক একটা অসঙ্গতির মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এই অসঙ্গতিকেই তারা সঠিক পন্থা মনে করছে। এ জন্য আমি মনে করি, প্রত্যেক অভিনয় শিল্পী-নির্মাতার চুক্তিপত্রের ধারাগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া প্রয়োজন। ডিরেক্টর গ্রিল্ডের সভাপতি সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, আমাদের ডিরেক্টর গ্রিল্ডের পক্ষ থেকে সব নির্মাতাকে বলা হয়েছে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে যেন শুটিং করা হয়। এরইমধ্যে কয়েকজন শুরু করেছেন। কিন্তু কারা চুক্তিপত্র না করে শুটিং করছেন সেটি আমরা জানিনা। যদি কারো সম্পর্কে সঠিকভাবে জানি চুক্তিপত্র ছাড়াই শুটিং করছেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেবো। অভিনয় শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম বলেন, এরইমধ্যে অনেকেই সমঝোতা চুক্তির মধ্য দিয়ে শুটিং করছেন। আমাদের সব শিল্পীকে বলা হয়েছে চুক্তি করেই শুটিং করার জন্য। কিন্তু এই সময়ে যারা চুক্তির বাইরে শুটিং করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি না। যেহেতু এটা আমাদের শুরু হয়েছে মাত্র। কয়েক মাস চুক্তির বাইরে কাজ করলে সতর্ক করবো। এরপরেও কেউ যদি এমনটা করে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

Facebook Comments

" বিনোদন " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ