Foto

পায়রায় এলএনজি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে যৌথ উন্নয়ন চুক্তি ।


পটুয়াখালীর পায়রায় ৩৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে জার্মানির সিমেন্স এজির সঙ্গে যৌথ উন্নয়ন চুক্তি (জেডিএ) করেছে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি। শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে দুই পক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির সচিব দ্বীপক কুমার ঢালি এবং সিমেন্স এজির গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিভাগের এমডি রিচার্ড ক্লেইটন রেসিগ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর আগে গত বছরের নভেম্বরের শুরুতে জার্মানির কোম্পানি সিমেন্সের সঙ্গে দেশের সবচেয়ে বড় এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল।


সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী প্রকল্প ব্যয়ের দুই দশমিক আট বিলিয়ন ডলারের মধ্যে দুই দশমিক চার বিলিয়ন আসবে ঋণ থেকে। বাকি ৪০০ মিলিয়ন ডলার থাকবে ইক্যুইটি হিসেবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সচিব আহমেদ কায়কাউস বলেন, অবসরে যাওয়ার আগে দেশের এতো বড় কাজের ফলাফল দেখে যেতে চান তিনি। এজন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সময়ের সঠিক ব্যবহার করে যথাসময়ে কাজ শেষ করতে হবে।

সরকার গত জুলাই মাসেই যৌথ উন্নয়ন চুক্তির আশা করেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে দুই মাস দেরি হয়ে গেছে। সুতরাং কাজ এগিয়ে নিতে হবে আরও দ্রুত।”

বর্তমানে পায়রায় চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গেই নতুন এ কেন্দ্রের জন্য ১০০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে।

৩৬০০ মেগাওয়াটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াটের তিনটি ইউনিট থাকবে। আমদানি করা এলএনজি এ কেন্দ্রে কীভাবে আনা হবে তা নিয়ে সমীক্ষা চলছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির এএম খোরশেদ আলম বলেন, এখন থেকে দুই কোম্পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিস্তারিত ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি, এনভায়রনমেন্টাল স্ট্যাডি করবে। তৃতীয় পক্ষের পরামর্শকের মাধ্যমে এলএনজির জন্য অবকাঠামো নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।

এছাড়া বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বা পিপিএ, ইমপ্লিমেন্টেশন এগ্রিমেন্টসহ এ ধরনের কাজগুলোও এগিয়ে নেবে দুই পক্ষ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রেটি থেকে প্রথম ধাপে ১২০০ মেগাওয়াট এবং পরের বছর ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

পিডিবির হিসাবে, ২০২১ সালের মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যিৎ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি খাতে ১২ হাজার ৩৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৬টি কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। সাত হাজার ৩৭৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪১টি কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া পরিকল্পনাধীন রয়েছে নয় হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৪টি প্রকল্প।

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ