Foto

পাঁচটা গান আর তিনটা ফাইটের দিন শেষ: আরিফিন শুভ


শুক্রবার থেকে বাংলাদেশের চারটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের কিছু ঘটনা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘হাসিনা: এ ডটার’স টেল’। তথ্যচিত্রটি মুক্তির আগের দিন আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে প্রিমিয়ার শোর আয়োজন করা হয়। সেদিন সন্ধ্যায় ছবিটি দেখতে এসেছিলেন চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। জানতে চাওয়া হয়, অভিনয় খুব বুঝেশুনে করছেন? অনেকে বলছেন, আপনার যে হারে কাজ করা উচিত, সে তুলনায় ছবির সংখ্যা কম। এটা সচেতনভাবেই করছেন? শুভ বললেন, ‘জোর করে অভিনয় হয় না, ভেতর থেকে আসতে হয়।’


এই উপলব্ধি কবে থেকে হলো?

চলচ্চিত্রে অভিনয় করছি কয়েক বছর হলো। তার আগে টেলিভিশন নাটকে কাজ করেছি। তারও আগে র‌্যাম্প মডেলিং করতাম, রেডিওতে কথাবন্ধুর (রেডিও জকি) কাজ করেছি। অভিনয় করতে গিয়ে বছরখানেক ধরে আমার মধ্যে এই উপলব্ধি হয়েছে। আমাদের স্বভাব হচ্ছে, নিজেদের অক্ষমতা আর অপারগতাকে ঢেকে রাখি। কিন্তু আমি মনে করি, যদি নিজের অপারগতা চিহ্নিত করতে পারি, তাহলে অন্তত জানতে পারব সমস্যাটা কোথায়। এরপর চেষ্টা করলে তা বদলে ফেলতে পারি। পারফর্মিং আর্টস মানেই চেষ্টা করতে করতে ভালোর দিকে যাওয়া।

এমন উপলব্ধি হওয়ার কোনো কারণ আছে?
অভিনয়ের ওপর আমার কোনো প্রশিক্ষণ নেই। থিয়েটার ব্যাকগ্রাউন্ডও নেই। অভিনয় শেখানো হয়, এমন কোনো স্কুলে কখনো যাইনি। আমরা যাঁদের কাজ দেখি, তাঁরা অভিনয় নিয়ে অনেক পড়াশোনা করেন, অনেক ভাবেন, চর্চা করেন। এই সুযোগ ইন্ডাস্ট্রি থেকে আমরা পাইনি। সুযোগটা নিজেকেই তৈরি করতে হবে। যখন বুঝেছি, অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছি। তখন থেকে আমার মধ্যে এসব সূক্ষ্ম বিষয়ে ভাবনার অভিপ্রায় হলো। সেখান থেকেই এই উপলব্ধি। আমরা শুধু কয়েকটা উপাদান নিয়ে অভিনয় করি। এই যেমন—শরীর, কণ্ঠ, চোখ ও মুখ। তাই তো সিনেমায় অভিনয়ের আগে নাচ শিখতে ভারতে যাই। আমাদের এখানে শেখার সুযোগ নেই বললেই চলে। যতটুকু শিখেছি, তা কেউ করে দেয়নি। শিখিয়ে দেওয়ার বিষয়টা আমাদের এখানে নেই। মুম্বাইয়ে কিন্তু অভিনয় শেখার অসংখ্য স্কুল আছে। আমাদের দেশে চলচ্চিত্রে অভিনয় শেখার স্কুল নেই। থিয়েটারে ঢুকলে লম্বা সময় লাগবে, যা এই মুহূর্তে সম্ভব না। তাই নিজের আগ্রহ থেকে শেখার জন্য চেষ্টা করছি। এর মাঝেই নানা উপলব্ধি হচ্ছে।

শুনেছিলাম, আপনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিনয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন?
লস অ্যাঞ্জেলেসে আমি দুই সপ্তাহের একটা কোর্স করেছি। কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যক্তির কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছি।

ইন্ডাস্ট্রিতে এমন কেউ আছেন, যাঁর দ্বারা আপনি অনুপ্রাণিত?
আমাদের দেশে অসাধারণ সব অভিনেতা ছিলেন। এখনো আছেন। ইদানীং চঞ্চল চৌধুরীর অভিনয় দেখে আমি খুব অনুপ্রাণিত। তিনি অন্যতম সেরা অভিনেতা, যাঁকে আমরা অনুসরণ করতে পারি। আমি তাঁর মতো অভিনয় দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারি, কিন্তু তা কত টুক পারব, জানি না। অভিনয় কিন্তু সোনার খনি খুঁজে পাওয়ার মতো বিষয় না, এটা সাধনার বিষয়। আমি সাধনা করছি। যদিও আমাদের সমাজব্যবস্থা তা খুব একটা সমর্থন করে না। এখানে সেই সুযোগও নেই।

শুরুতেই বলেছিলাম, অনেকেই মন্তব্য করেন, আপনার যে হারে কাজ করা উচিত, সে তুলনায় ছবির সংখ্যা কম। কেন?
সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, পাঁচটা গান আর তিনটা ফাইটের দিন চলে গেছে। পাঁচটা গান আর তিনটা ফাইট দেখে ছবির কাজ নেওয়ার সেই সময়টা এখন নেই। প্রত্যেক মানুষের জীবনদর্শন আলাদা। একটা কাজ করলাম,অনেক প্রশংসা পেলাম, সেই ধারায় গা ভাসিয়ে দিলাম—জীবনকে এভাবে দেখি না। আমার দর্শন হচ্ছে, চেষ্টা করে যাও। জার্নিটা চালু রাখা। আমি পৃথিবীর সবকিছু জানি না, এটা স্বীকার করতে হবে। কখনো সফল হব, কখনো ব্যর্থ। পৃথিবীর সব বড় মানুষের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়েছে। সব কর্ম, সব সৃষ্টি শুরুতে সফল হয়নি। কিন্তু কিছু কাজ তাঁদের সময়ের পাতায় জায়গা করে দিয়েছে।

চঞ্চল চৌধুরী দ্বারা অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর কোন কাজটা দেখে এমন মনে হয়েছে?
আয়নাবাজি ছবির কথা বলব। এই ছবিতে তাঁর অভিনয় এককথায় অসাধারণ! আমাদের দর্শকের স্বভাব হলো, প্রশংসা করতে জানি না। করলেও কৃপণতা করি। কিন্তু এমন অভিনয় যদি দেশের বাইরের কেউ করতেন, তাঁকে নিয়ে হইহই করতাম। এখন সময় এসেছে, সফলদের প্রশংসা করতে হবে, তাঁদের স্বীকৃতি দিতে হবে। এই মানসিকতা নিয়ে কাজ করলে নিজেদের আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। তা না হলে এক জায়গায় পড়ে থাকতে হবে।

নতুন কী কাজ করছেন?
গোলাম সোহরাব দোদুলের সাপলুডু আর নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূলের জ্যাম—এই দুটি ছবির কাজ করছি। আরও কয়েকটি ছবি নিয়ে কথা হচ্ছে। আগামী বছর এপ্রিল পর্যন্ত আমার শিডিউল নেই।

Facebook Comments

" সিনেমা জগৎ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ