Foto

নির্বাচন জানুয়ারিতেও হতে পারে - ওবায়দুল কাদের


এতদিন ডিসেম্বরের কথা বলে এলেও এবার জানুয়ারি মাসেও নির্বাচনে হওয়ার সম্ভাবনার কথা নেতা-কর্মীদের জানিয়ে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে বললেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।


ক্ষমতাসীনদের কথায় ডিসেম্বরের উল্লেখ নিয়ে সিইসি কে এম নূরুল হুদার প্রতিক্রিয়া প্রকাশের একদিন পর রোববার ঢাকার উত্তরায় জনসংযোগের সময় জানুয়ারির কথা বলেন কাদের।

সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তবে গত কয়েক মাস ধরেই সরকারের কর্তাব্যক্তিরা বলে আসছেন, ডিসেম্বরেই নির্বাচন হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় সিইসি শনিবার বলেছিলেন, ডিসেম্বরে ভোট হবে, এমন কথা তারা বলেননি।

দুদিন আগে ঢাকাতেই গণসংযোগে গিয়েও ডিসেম্বরের কথা বলে আসা ওবায়দুল কাদের রোববার উত্তরার আজমপুর বাসস্ট্যান্ডে গণসংযোগের সময় বলেন, “নির্বাচন কমিশন জানুয়ারি মাসের ২৭ তারিখের আগে যে কোনো দিন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারে। সেটা নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার।”

“আপনারা প্রস্তুত হোন, অক্টোবর মাসে আমরা মনোনয়ন পর্ব শুরু করে দিয়েছি,” দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন তিনি।

ভোটের সময় সরকারের আকার ছোট হওয়ার কথা জানিয়ে এতদিন যে নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলে আসছিলেন মন্ত্রী কাদের, এদিন বক্তব্যে তা থেকেও সরে আসেন তিনি।

তিনি বলেন, “কোনো অন্তর্বর্তীকালীন, নির্বাচনকালীন সরকার হবে না। সরকার যেটা আছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, এই সরকারই থাকবে।

“তবে সরকার তখন রুটিন ওয়ার্ক করবে। সরকারের দায়িত্বের এরিয়া বদলে যাবে। মেজর দায়িত্ব থেকে সাধারণ দায়িত্ব, রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। হয়ত সাইজটা একটু ছোট হবে। সেটা অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে হতে পারে।”

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “জাতিসংঘের মহাসচিব যান ঘানা, তার নামে চিঠি এল। এই চিঠি কি আকাশের ঠিকানায় এল? পরে দেখা গেল মহাসচিব নাই। একজন অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি জানালেন। জাতিসংঘের মহাসচিবের নামে এই চিঠি ভুয়া।”

কাদেরের এই বক্তব্যে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপিকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।

বিএনপি নেতাদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, “যত নালিশ, যত নাশকতার পরিকল্পনা করেন, যত সন্ত্রাস চালান, কোনো কাজ হবে না।”

বিএনপির আন্দোলনের সামর্থ্য নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলে কাদের বলেন, “বিএনপির খবর কী? অক্টোবর কবে হবে? আগস্ট মাসে বলে এক মাসের কথা। সেপ্টেম্বর মাসে বলে এক মাসের কথা। সেপ্টেম্বর গেল, এখন বলে এক মাসের মধ্যে আন্দোলন হবে। বহুরূপী ব্যারিস্টারের কথা মানুষ কি বিশ্বাস করে?

“আন্দোলন ১০ বছরে হয় নাই, ১০ মাসে হবে? দেখতে দেখতে ১০ বছর, আন্দোলন হবে কোন বছর? দেখতে দেখতে ১০ বছর, মানুষ বাঁচে কত বছর?

“বিএনপির এখন মূল ক্যাপিটাল হচ্ছে গুজব সন্ত্রাস। এই যে গুজব, আওয়ামী লীগ অফিসের নামে। এক মহিলাকে কালো কাপড় পরিয়ে, মহিলা চিৎকার করে বলছে ভিডিও পোস্টিংয়ে- ‘আমাকে আওয়ামী লীগ অফিসে রেপ করা হচ্ছে, আমাকে বাঁচান’।

“এই সকল অপকর্ম কে করেছে? ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৪ মহিলা না কি আটক, পরে আন্দোলনকারী ছেলেরা গিয়ে দেখল হদিস নেই। মিথ্যা কথা প্রচার হচ্ছে, এই অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে।"

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কাদের বলেন, “যারা দলীয় মনোনয়নের বিরোধিতা করবেন, এবার বঙ্গবন্ধুকন্যা কাউকে ক্ষমা করবেন না। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, শোডাউনে কারও নমিনেশন হবে না। শোডাউনের নামে যারা বিশৃঙ্খলা করবে, তাদের নম্বর কাটা যাবে।

“কয়েকটা সংস্থা এখানে মনিটরে আছে, কারা কী করছে, সব দেখছি। প্রার্থীদেরকে বলব, সমর্থকদের থামান। না হলে কিন্তু আপনার নম্বর কাটা যাবে।

“সামনে আরও ২০/২৫ দিন সময় আছে। নম্বর যাদের ভালো আছে, ক্যাডারের জন্য নম্বর কিন্তু কমবে। যেই নেতা ক্যাডারের কথায় চলে, ওই নেতার আমাদের দরকার নাই। মশারির মধ্যে মশারি চলবে না। ঘরের মধ্যে ঘর করলে চলবে না। ঠিকঠাক মতো চলেন। চাঁদাবাজদের, দখলদারদের প্রশ্রয় দেবেন না। চাঁদাবাজের জায়গা আওয়ামী লীগে নেই।”

আওয়ামী লীগের কেউ অপকর্ম করলে তা দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার ধানমন্ডির কার্যালয়ে টেলিফোন করে নালিশ করতে জনগণকে পরামর্শ দিয়ে কাদের বলেন, “আমরা বিচার করব।”

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুনের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এ কে এম এনামুল হক শামীম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মো. ইব্রাহীম।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ