Foto

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে হত্যা


বেপরোয়া গতির যানবাহনে সড়কের অকাল মৃত্যুর টানা প্রতিবাদ এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যেই গতকাল সিলেটে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ময়মনসিংহ-সিলেট মহাসড়কের শেরপুরে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।


নিহতের নাম ওয়াসিম আফনান। তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তার বাবা হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়ন রুদ্র গ্রামের মো. আবু জাহেদ মাহবুব ও মা ডা. মীনা পারভিন। ওয়াসিমের লাশ সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এদিকে জনতা বাসটি আটক করে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। তাদের শাস্তির দাবিতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে। তারা সিলেট মহাসড়ক থেকে শহরে যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রশাসন যতক্ষণ পর্যন্ত পদক্ষেপ না নেবে, ততক্ষণ তারা মহাসড়কে অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে এসেছেন। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সিলেটের কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে উদার পরিবহনের কাউন্টারে হামলা করেছেন বলে জানা গেছে। সিলেট কৃষি বিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী নয়ন শুভ জানান, ওয়াসিমসহ ১১ জন হবিগঞ্জের দেবপাড়ায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তারা ময়মনসিংহ-সিলেট রোডের উদার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। ভাড়া নিয়ে বাসের হেলপারের সঙ্গে তাদের বিবাদ হয়। একপর্যায়ে বাসের হেলপার ওয়াসিমসহ আরেকজনকে ধাক্কা দেন।

এতে ওয়াসিম বাস থেকে পড়ে যান এবং চাকা তার পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা রাকিব হোসেন নামে আরেক শিক্ষার্থী বাস থেকে লাফ দিয়ে নামেন। এর পর প্রাইভেটকারে করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওয়াসিমের মৃত্যু হয়। রাকিব হোসেনকে আহত অবস্থায় একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা বাসটি আটক করেন। ততক্ষণে বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। পরে মৌলভীবাজার সদর থানা পুলিশ বাসটি জব্দ করে। ওয়াসিম আফনানের বন্ধুরা জানান, বাসের হেল্পপার ও চালক ইচ্ছে করেই তাকে বাস থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদার পরিবহনের ওই বাসটি জব্দ করা হয়েছে। আর পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালেও ভিড় করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। হাসপাতালে তাৎক্ষণিকভাবে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য প্রফেসর মতিয়ার রহমান হাওলাদার। তিনি জানান, মানুষের জীবনের মূল্য কমে গেছে। সহনশীলতা কমে গেছে। ওয়াসিমের মৃত্যুর এই ঘটনাকে সড়ক দুর্ঘটনা বলা যায় না, এটা মার্ডার।

Facebook Comments

" সিলেট সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ