Foto

ধর্ষণ মামলার প্রতিশোধ নিতে ধর্ষিতাকে খুন!


বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে ধর্ষণ মামলার প্রতিশোধ নিতে খুকু মনিকে (১৮) হত্যার অভিযোগ উঠেছে ধর্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।


সোমবার বিকেলে নিহতের বাবা মানিক গাজী বাদী হয়ে বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করেন।

এঘটনায় মেহেন্দীগঞ্জ থানার ওসিকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার পশ্চিম জাঙ্গালিয়া এলাকার ফয়সাল আকন, মকবুল বেপারী, হেলাল গাজী, সোহরাব হাওলাদার, বাহাদুর হাওলাদার, লেঙ্গুটিয়া এলাকার মাইন উদ্দিন মাঝি ও কালাম মাঝি, মিজান মাঝি, ফয়সাল হাওলাদার ও আসাদ হাওলাদার, ইব্রাহিম মাঝি, মো. রিয়াদ, মো. রফিক, মো. রাশেদ ও হাসিব মাঝি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মেহেন্দিগঞ্জের চর পশ্চিম জাঙ্গালিয়া এলাকার মানিক গাজীর মেয়ে খুকু মনিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে মামলার ১ নম্বর আসামি ফয়সাল আকন। এতে খুকু মনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ফয়সালের পরিবারকে জানানো হয়। এদিকে ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর ফয়সাল খুকুকে বরিশালের একটি ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভপাত ঘটায়। পরে ফয়সালকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে বিচার পেতে খুকু আদালতে মামলা দায়ের করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ডাক্তারি পরীক্ষায় খুকুকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেলে ফয়সালসহ অন্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে খুকুর পরিবারের সকলকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। অব্যাহত হুমকির মুখে গত ৬ ফেব্রুয়ারি খুকু মনি বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আরও ক্ষুব্ধ হয় আসামিরা।

সবশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে খুকুকে বাসা থেকে অপহরণ করে আসামিরা। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার লাশ উত্তর জাঙ্গালিয়া এলাকার একটি সুপারি বাগানে ফেলে দেয় আসামিরা। পরদিন থানা পুলিশ ওই সুপারি বাগান থেকে খুকুর লাশ উদ্ধার করে বরিশাল মর্গে প্রেরণ করে।

Facebook Comments

" আইন ও বিচার " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ