Foto

দ্রুত শাস্তি দিলে ধর্ষণ প্রতিরোধ সম্ভব


কোথাও নিরাপদ নয় নারী-শিশু। ঘরে-বাইরে, গণপরিবহনে- সবখানেই তারা নির্যাতন, নিপীড়ন, অপহরণ, ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। আর এ ধরনের নৃশংসতা বাড়ার অন্যতম কারণ বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও মামলার দীর্ঘসূত্রতা। সংঘটিত কয়েকটি অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শাস্তি দিলে তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং ধর্ষণ প্রতিরোধও সম্ভব হবে।


কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হলেই এ ধরনের উপসর্গ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আর যদি সমাজে বিচারহীনতা গ্রাস করে ফেলে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি পেয়ে বসে, তাহলে তো কথাই নেই। সাম্প্রতিককালে বেশক’টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দণ্ড পাওয়ার দৃশ্য আমরা দেখিনি। দেখেছি, প্রভাব খাটিয়ে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপা দিতে। কোনো কোনো অপরাধী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং পেশিশক্তি ব্যবহার করে আইনকে পাশ কাটিয়ে সমাজে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। যার কারণে আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে।

ধর্ষণ কিংবা গণধর্ষণের মতো ঘটনায় শতকরা দুটির বেশি বিচার হয় না। ধর্ষণ, গণধর্ষণ শেষে হত্যার মতো বর্বর ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের সাজা না হওয়ায় প্রমাণিত হয়, বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, তদন্ত ও বিচার ব্যবস্থা নির্যাতিত নারী-শিশুকে সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে। ধর্ষণের পর হত্যার মতো নৃশংস ঘটনায় অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলেই অপরাধীরা বর্বর ঘটনা পুনরায় ঘটাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিণাম ভয়াবহ হবে।

বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণেও দেশে নারী-শিশুর ওপর নানা ধরনের বর্বরতা বেড়ছে। তবে ধর্ষণ ও হত্যার জন্য অনেকাংশে দায়ী বিচারহীনতার সংস্কৃতি। গুলশানে রেইনট্রি হোটেলের ঘটনা সবাই জানেন, অনেক আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে। অথচ দুই বছর পরে অভিযুক্তের স্ত্রী বলছেন, ’এগুলো বানোয়াট; মিথ্যা অভিযোগ এনে তার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি।’ দুই বছর পরে এসে সম্পূর্ণ কাহিনী বদলে গেছে। আসামি জামিনেও বের হয়ে গেছে। এর অন্যতম কারণ মামলার দীর্ঘসূত্রতা। এই দীর্ঘ সময়ের কারণে সাক্ষী হারিয়ে যায়। পরিস্থিতি বদলে যায়। ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার সুযোগ পায় আসামিপক্ষ। এতে করেও ন্যায়বিচার মুখ থুবড়ে পড়ে। বিচারহীনতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে অপরাধীরা অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়। কারণ তারা জানে, অপরাধ করলে কয়েকদিন শুধু নাম প্রচার হবে; বিচার হবে না। বিচারহীনতার ধারণা জন্মানোর কারণেই এখন নির্মমভাবে খুন করা হচ্ছে।

তাই ধর্ষণ প্রতিরোধে প্রথমেই দ্রুত আসামিকে বিচারের আওতায় এনে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পরপর কয়েকটি ঘটনার বিচার করা হলে তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মানুষের মধ্যে ভয় জাগবে যে, অপরাধ করে কেউ পার পেতে পারে না। পরপর কয়েকটি ঘটনার ক্ষেত্রে যদি দেখানো যায়, যারা অপরাধ করছে, তারা দণ্ডিত হচ্ছে, তাহলেই ধর্ষণ প্রতিরোধ সম্ভব হবে। ধীরে ধীরে অপসংস্কৃতি থেকে মুক্তি পাবে এ সমাজ।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ