Foto

দেশে তিন কোটি মানুষ দরিদ্র


অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘আমরা দারিদ্র্যকে অনেকভাবে হারিয়েছি। কিন্তু এখনো প্রায় তিন কোটি মানুষ দরিদ্র। তার মধ্যে আবার এক কোটি অত্যন্ত হতদরিদ্র। সরকারের দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যমাত্রা ১৯৭১ সালে নির্ধারিত হয়েছিল, সেটা এখনো আছে।’ আজ রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ কিশোর-কিশোরী সম্মেলন ২০১৮’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) উদ্যোগে দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বছরে ২ শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমিয়ে ১০ বছরের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের বার্ষিক দারিদ্র্য দূরীকরণ হার এখনো ২ শতাংশের যথেষ্ট নিচে রয়েছে। এটাকে ২ শতাংশে যদি আমরা নিতে পারি, তাহলে হয়তো আগামী ১০ বছরে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূরীভূত করতে পারব। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে দারিদ্র্যসীমা অন্তত ১০ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা। এ জন্য আমরা যে কার্যক্রম গ্রহণ করছি, সে অনুযায়ী যদি সাত-আট বছর চালিয়ে যেতে পারি, তাহলে সেই লক্ষ্যে আমরা পৌঁছে যেতে পারি।

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বাংলাদেশ ও বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন দেশটাকে স্বাধীন করলাম, তখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্যমাত্রা হলো এ দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করা। তখন দেশের অন্তত ৭০ ভাগ মানুষ দরিদ্র, সম্ভবত এটা ৮০ থেকে ৯০ ভাগও হতে পারে। এদের উন্নয়নই হলো আমাদের দেশের উন্নয়নের মূলমন্ত্র। প্রথম দিনই সেটা উন্নয়নের মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে। আজও সেটা একই কাজই করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণ মানে এই নয় যে দেশে কোনো গরিব লোক থাকবে না। কিছু দারিদ্র্য সব সময় থাকবে। প্রতিবন্ধী যারা আছে, বিধবা বা অসহায় বৃদ্ধ যাঁরা আছেন, তাঁরা কোথায় যাবেন? তাঁদের রাষ্ট্রের দেখাশোনা করতে হবে এবং রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায় যেকোনো দেশের ১০ থেকে ১৪ শতাংশ মানুষ অবস্থান করে। আমেরিকার মতো অত্যন্ত ধনী দেশেও ১৪ শতাংশ মানুষ গরিব। তবে মালয়েশিয়ায় পৃথিবীর সবচেয়ে কম, মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার মধ্যে আছে।

পিকেএসএফের সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সুস্থ সংস্কৃতি ও ক্রীড়াচর্চায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে উন্নয়নকে টেকসই করতে শিশু-কিশোরদের নিয়ে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

আরও বক্তব্য দেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম, পিকেএসএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জসীম উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের।

বাংলাদেশ কিশোর–কিশোরী কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের প্রায় ১১ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের মধ্য থেকে সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ৭১০ জন চূড়ান্ত বিজয়ী হয়। বাছাই করা কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে বাংলাদেশ কিশোর-কিশোরী সম্মেলন ২০১৮ আয়োজন করা হয়েছে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ