Foto

দেশের অর্থনীতিতে যত চ্যালেঞ্জ


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বর্তমানে বহুল স্বীকৃত। সত্তরের দশকের শুরুতে যা চিন্তাও করা যায়নি, আজ তা বাস্তবতা। এনজিও ও ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশের মাধ্যমে গ্রামীণ সম্প্রদায়ের মধ্যে ঋণ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা, তৈরি পোশাকশিল্পের অগ্রগতি এবং ওষুধশিল্পের প্রসার; যা অর্থনীতিকে দ্রুত কৃষি থেকে শিল্পে রূপান্তর করে এবং অবকাঠামোয় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ, যা আগের ক্ষুদ্র অর্থনীতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে।


কৃষি খাতে সবুজ বিপ্লব, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পরিবার-পরিকল্পনা কর্মসূচি, স্বাস্থ্য খাতে স্বল্প ব্যয়সাপেক্ষ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের বিকাশ, গ্রামীণ বৈদ্যুতিকীকরণে বিনিয়োগ, নারীদের উপবৃত্তি কর্মসূচি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন এবং নব্বইয়ের দশক-পরবর্তী আরও কিছু সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উদারীকরণ কর্মসূচি। তবে অর্থনীতিতে বেশ চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দুর্বল গণতন্ত্র, সুশাসনের অভাব, ত্রুটিপূর্ণ ও দুর্নীতিগ্রস্ত আর্থিক ব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্বল্প বিনিয়োগ। এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

এসব চ্যালেঞ্জ না থাকলে দেশ অর্থনীতিতে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যেতে সক্ষম হতো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আবার এই চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণের উপায়ও বলছেন তারা। দেশি-বিদেশি অর্থনীতিবিদরা এতদিন এই "প্যারাডক্স" বা স্ববিরোধকে বাংলাদেশের অর্থনীতির "মিরাকুলাস" বা জাদুকরী শক্তি বলে বর্ণনা করে মুগ্ধ বিস্ময় প্রকাশ করে এসেছেন। কিন্তু অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন বিদ্যমান সমস্যাগুলো অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক অগ্রগতির এই সুখপ্রদ পর্ব আর বেশি দিন স্থায়ী হবে না। বস্তুত কোনো স্ববিরোধেরই চূড়ান্ত পরিণতি স্থায়ী সুফল বয়ে আনতে পারে না।

অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, কম বিনিয়োগ থেকে বেশি সুফল পাওয়ার দিন শেষ হয়ে আসছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ যেসব খাতে উন্নতি হয়েছে, সেগুলোর উন্নতি বজায় রাখতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শিল্প-বাণিজ্যসহ অন্যান্য খাতেও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে না, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশও উন্নত হচ্ছে না। ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বা সহজে ব্যবসা করার বৈশ্বিক সূচকে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছি। এমনকি যুদ্ধ বিগ্রহের দেশ আফগানিস্তানও আমাদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে আলট্রা রিচ বা অতিধনী ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আমরা বিশ্বের সব দেশকে ছাড়িয়ে গেছি।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্নআয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশের স্তরে উন্নীত হয়েছে। সেই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এখন জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় রেখে অর্থনৈতিক কর্মকা- ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমশক্তির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। মাথাপিছু আয় ও জিডিপি বাড়লেই নতুন বাস্তবতায় দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব হবে না, যদি উৎপাদনশীলতা নিম্নপর্যায়েই থেকে যায়। তাই দক্ষ জনবল সৃষ্টি, অধিকতর বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং সর্বোপরি সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

 

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ