Foto

তারেকের বিষয়ে করার কিছু নেই: ইসি


আদালতের দণ্ড নিয়ে পলাতক অবস্থায় দলীয় প্রার্থীর সাক্ষাৎকারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ নিয়ে ‘কিছু করতে পারছে না’ নির্বাচন কমিশন। তারেক দেশে না থাকায় এক্ষেত্রে আচরণবিধি প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন পরিচালনাকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি।


তারেককে নিয়ে আওয়ামী লীগের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইসির এ সিদ্ধান্ত সোমবার বিকালে সাংবাদিকদের জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন সভায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে।

“এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়টি নিয়ে কোনো করণীয় নেই।”

সচিব বলেন, “উনি যেহেতু দেশে নাই, তাই আচরণবিধি উনার জন্য প্রযোজ্য হবে না বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

“কিন্তু (তারেকে বক্তব্য প্রচার নিয়ে) যেহেতু হাই কোর্টের একটি নির্দেশনা রয়েছে, সেজন্য সেই নির্দেশনা প্রতিপালনের দায়িত্ব সবার।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক একুশে অগাস্টের গ্রেনেড হামলাসহ তিনটি মামলায় দণ্ডিত; লন্ডনে থাকা তারেককে পলাতক ধরেই আদালত মামলাগুলোর রায় দেয় আদালত।

মা খালেদা জিয়া বন্দি থাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা তারেক রোববার একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন স্কাইপে যুক্ত হয়ে।


তারেকের তৎপরতার খবর প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাদের দলে মনোনয়ন বোর্ডে কে থাকবেন, সেটা কেবল তাদেরই বিষয়। বাইরের কারও তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেন, দণ্ডিত ও পলাতক আসামি হিসেবে তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

পরে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়ে আসে। তারা বলেছিল, আদালতে দণ্ডিত তারেকের মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকার গ্রহণ নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান ইসিতে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “এটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। আমরা লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছি। আমরা আশা করছি, নির্বাচন কমিশন যথাযথ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেছিলেন, এক্ষেত্রে আইনগতভাবে কিছু করার আছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন তারা।

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর গ্রেপ্তার তারেক পরের বছর সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলেই জামিন নিয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে যান। তারপর থেকে সেখানেই রয়েছেন তিনি।

যুক্তরাজ্য তারেক নানা সভা-সমাবেশে দেশের স্বাধীনতা প্রশ্নে মৌলিক কিছু বিষয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার পর তার বার্তা-বিবৃতি প্রচারে কয়েক বছর আগে নিষেধাজ্ঞা আসে হাই কোর্টের তরফে।

এরপর মুদ্রা পাচারের একটি মামলায় তারেকের সাত বছর কারাদণ্ড হয়; পরে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় মায়ের সঙ্গে তারও সাজা হয় ১০ বছর কারাদণ্ড। সবশেষ গত মাসে একুশে অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় তারেকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় হয়।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ