Foto

তারা জেনে-শুনে বিষ করেছে পান: কাদের


আওয়ামী লীগ ছেড়ে যারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ভিড়েছেন, তাদের ভবিষ্যৎ পরিণতি শুভ হবে না বলে সতর্ক করেছেন ওবায়দুল কাদের।তিনি বলেছেন, “তারা তো আওয়ামী লীগেই ছিলেন। তাদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ থাকবে। তারা তো জেনে-শুনে বিষ পান করেছেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এটা তাদের দীর্ঘদিন তাড়িত করবে।” একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আওয়ামী লীগের কয়েক নেতার যোগ দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে শুক্রবার একথা বলেন কাদের।


বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা কামাল হোসেন এক সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে ছিলেন, বঙ্গবন্ধুর সরকারে মন্ত্রীও ছিলেন তিনি। তার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আরও যোগ দিয়েছেন আবু সাইয়িদ, সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, কিবরিয়াপুত্র রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমণ্ডির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এলে দলছুটদের নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন কাদেরকে।

তিনি এপ্রসঙ্গে আরও বলেন, “আমাদের ভুল-ক্রুটি থাকতে পারে। ভুল হলে সংশোধনের সৎ সাহস শেখ হাসিনার আছে। কিন্তু আমাদের রাজনীতি বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের রাজনীতি। আমরা মানুষের মাঝে আছি। তাই ক্ষমতায় না থাকলেও পালিয়ে যাব না।”

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু জেলখানা থেকে বাইরে পা দিয়ে কুয়াশা ভেজা সকালে এক খণ্ড মাটি কপালে ছুঁইয়ে বলেছিলেন, এই দেশেতেই জন্ম আমরা যেন এই দেশেতেই মরি।

“আমরাও এই মাটির সঙ্গেই আছি। বঙ্গবন্ধুও ছিলেন, তার কন্যা শেখ হাসিনাও আছেন।”

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার মনোনয়নপর্ব শেষে দেওয়া হবে বলে জানান দলের সাধারণ সম্পাদক।

তবে ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন এখন চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান কাদের।

তিনি বলেন, “এবার দলের মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনীতিকদেরই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গতবারের চেয়ে এ সংখ্যা আরও বেড়েছে।

“সর্বমোট আসন সংখ্যার মধ্যে ১৬ থেকে ১৭ জন ব্যবসায়ী মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়া ৪০ জনের কাছাকাছি মুক্তিযোদ্ধা, আর নতুন মুখ ৫০ এর কোঠা ছুঁতে পারে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, “মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগে নিশ্চিত করে বলা যাবে না, কে বিদ্রোহী প্রার্থী। তবে কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী হলে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে।”

আসন ভাগাভাগি নিয়ে মহাজোটে ক্ষোভ রয়েছে কি না- জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “কিছু ক্ষোভ তো থাকতেই পারে। এত বড় মহাজোট। এখানে তো ক্ষোভ-বিক্ষোভ কিছু হবেই। সেই ক্ষোভ প্রশমিতও আমরা করব। কিন্তু প্রত্যাহার পর্যন্ত যাদের ধৈর্য থাকবে না, তাদের জন্য ব্যবস্থা আছে।”

 

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ