Foto

তামিম-সৌম্যর রসায়নে নেই ‘জোরাজুরি’


তামিম ইকবাল যখন ধুঁকছেন, সৌম্য সরকার তখন ছুটছেন। ব্যাটিংয়ে তো বটেই, মানসিকতায়ও। দ্রুত রান তুলে শুধু তামিমের ওপর চাপই কমাননি সৌম্য, সাহস দিয়েছেন কথায়ও। ভরসা পেয়ে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন তামিম। দুজনের দারুণ রসায়নেই গড়া হয়েছে রেকর্ড জুটি। জিতেছে দল।


ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে মঙ্গলবার শুরু হয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের পথচলা। ২৬২ রান তাড়ায় জয়ের কাজ অনেকটা সারা হয়ে যায় তামিম ও সৌম্যর উদ্বোধনী জুটিতেই। দুজনে যোগ করেন ১৪৪ রান, দেশের বাইরে যা বাংলাদেশের সেরা ওপেনিং জুটির রেকর্ড।

এক পর্যায়ে যদিও মনে হচ্ছিল, আরও বড় লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান একসময় ছিল ২ উইকেটে ২০৫। কিন্তু মাশরাফি বিন মুর্তজার দারুণ স্পেলের পর খুব বড় স্কোর গড়তে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা। ম্যাচ শেষে সৌম্য জানালেন, লক্ষ্য নাগালে ছিল বলেই তাড়া ছিল না তাদের।

“একটা সময় মনে হচ্ছিল তিনশ রান তাড়া করতে হবে। পরে খেলাটা ধরতে পারি আমরা। ২৬০ রানে আটকে রাখি। এরপর টার্গেট ছিল স্বাভাবিকভাবে ব্যাটিং করা। উইকেট খুব সহজ ছিল না ব্যাটিংয়ের জন্য। শট অতটা খেলা যাচ্ছিল না। পেছনের বলগুলো খেলা যাচ্ছিল, সামনের বলগুলি অতটা নয়। পরিকল্পনা ছিল যে জুটি গড়তে হবে, তাহলে খেলা আমাদের হাতে আসবে। সেটিই হয়েছে।”

জুটির শুরুটা যদিও স্বস্তিময় ছিল না তামিমের জন্য। মাঝব্যাটে খেলতে পারছিলেন না দেশের সফলতম ব্যাটসম্যান। ঠিকমতো হচ্ছিল না টাইমিং। এক পর্যায়ে রান ছিল তার ৩০ বলে ৬!

এরপরও চাপে পড়েনি দল, কারণ সৌম্যর ব্যাটে সচল ছিল দলের রানের চাকা। জুটির রসায়নের পরীক্ষা হয় এই কঠিন সময়গুলোতেই। সৌম্য জানালেন, তারা কিভাবে পরীক্ষায় জিতলেন।

“এমন হয়নি যে তামিম ভাই রান করছিল না বলে আমরা আটকে পড়ছিলাম। কোনো চাপ আসেনি। উনি আমাকে বলছিলেন যে, ’তুই তোর নরম্যাল খেলা খেল। একটা সময় ম্যাচ আমাদের হাতে চলে আসবে।’ তখন আমিও তাকে বলছিলাম যে, ’আপনার খেলা ঠিক আছে, একটা ওভার ভালো গেলেই আপনি পরে রান কাভার করে ফেলতে পারবেন।’ এসব নিয়েই কথা হচ্ছিল। দুজনই দুজনকে বলছিলাম যে জোরাজুরি করা যাবে না।”

হয়েছেও ঠিক এমনটিই। কেমার রোচকে পরপর দুই বলে বাউন্ডারি মেরে জড়তাগুলোকেও দূরে পাঠিয়ে দেন তামিম। দুজনের ব্যাটে স্ট্রোকের ফোয়ারায় জন্ম নেয় ম্যাচ জেতানো জুটি।

Facebook Comments

" ক্রিকেট নিউজ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ