Foto

তবু নিজেরই দোষ দেখছেন মুমিনুল


১৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চা বিরতির পর ধুঁকছিল বাংলাদেশ। ভূমিকম্পের উৎস ছিলেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। মুমিনুল মনে করেন, গ্যাব্রিয়েলকে আর দুটি ওভার দেখে খেললে এই ধস ঠেকানো যেত । বাউন্ডারি হচ্ছিল না আউট ফিল্ড ধীর ছিল বলে?


: না, আমাদেরই দোষ। আরও জোরে মারা উচিত ছিল।
ক্যারিয়ারের আট সেঞ্চুরির ছয়টাই এই মাঠে! রহস্য কী?
: জানি না, আল্লাহর রহমত আছে এই কারণে।
যে হাথুরুসিংহে চলে যাওয়ার পর এক বছরে চারটা সেঞ্চুরি করলেন।
: না এখানে দেখিয়ে দেওয়ার কিছু নেই।

এ-ই হলো আজকের সংবাদ সম্মেলনের মুমিনুল হক। শুধু আজকের নয়, সব সময়ের। মুমিনুলের এই বিনয়, এই ভালো মানুষী কোনো মুখোশ নয়। তিনি আগাগোড়াই এমন। এ কারণেই হয়তো টানা দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি করার পরও নিজের কোনো কৃতিত্ব তিনি দেখছেন না। দেখছেন দোষ!

ম্যাচের প্রথম ওভারেই উইকেট হারানো বাংলাদেশ চা বিরতিতে গিয়েছিল ৩ উইকেটে ২১৬ স্কোর নিয়ে, তাতে তাঁর কৃতিত্বই মূল। ১১৬ রানই যে মুমিনুলের ব্যাটে। কিন্তু চা বিরতির পর ১৩ রানের মধ্যে বাংলাদেশ যে চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলল, সেই ধসটা শুরু হয়েছিল মুমিনুলকে দিয়েই। তিনজনই প্রায় কাছাকাছি ভুলের খেসারত দিয়েছেন। শরীর থেকে অনেক দূরে ব্যাট চালিয়ে আউট। ২৫৯ রানে ৮ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বাংলাদেশ তখন হতাশায় মাথা কুটছে। সেই সময়ে নবম উইকেটের অবিচ্ছিন্ন ৫৬ রানের জুটি বাংলাদেশকে আবার ফিরিয়ে এনেছে ম্যাচে।

এই ম্যাচে বাংলাদেশ যদি ভালো কিছু করে, তাতে নিজের কৃতিত্ব নয়, মুমিনুল বেশি অবদান দেখছেন নাঈম-তাইজুলের এই রুখে দাঁড়ানো জুটির, ’টেল এন্ডাররা যে রান করেছে, সেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে। হয়তো এই রানের কারণেই আমরা ম্যাচ জিততেও পারি, যদি আল্লাহর রহমতে ম্যাচ জিতি।’

নিজেকে এখনো দুষছেন, এত বাইরের বলটা কেন খেলতে গেলেন ওভাবে, ’ওটা পুরো আমার দোষ ছিল, অনেক বাইরের ছিল, আমি চাইলে ছাড়তে পারতাম। আমি আউট না হলে দল অনেক ভালো অবস্থানে থাকত। আমাদের যদি উইকেট এত বেশি না-পড়ত তাহলে আমাদের ৪০০ রান হতো। সেদিক থেকে ওরা কিছুটা এগিয়ে ছিল। শেষের দিকে আমরা মোটামুটি সামলে নিয়েছি। যে অবস্থা ছিল, সেই হিসেবে ওরা দুজন ভালো পুষিয়ে দিয়েছে।’

তাঁর আউট দিয়েই চা-বিরতির পর ওই পতনের শুরু বলে অনুশোচনাটা আরও বেশি হচ্ছে। মুমিনুলকে কেউ দোষারোপ করছে না, কিন্তু নিজে বিশ্লেষণ করে দেখছেন, শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে আর দুটি ওভার সামলে খেলতে পারলে মাঝখানে এই ভূমিকম্পটা তৈরিই হতো না, ’দেখেন ওই বাজে শটটা যদি না খেলতাম, দোষটা মনে হয় পুরোটাই আমার নিজের। ও (শ্যানন গ্যাব্রিয়েল) হয়তো ওই স্পেলে আরও দুই ওভার বল করত। আমি যদি আউট না হতাম, তাহলে আরও দুইটি উইকেট হয়তো পড়ত না। মুশফিক ভাই, রিয়াদ ভাই হয়তো আউট হতো না, সাকিব ভাই, মিরাজও আউট হতো না। দিন শেষে আমরা আরও ভালো অবস্থানে থাকতাম।’

এ-ই হলেন মুমিনুল!

Facebook Comments

" ক্রিকেট নিউজ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ