Foto

ঢাকায় আঁকিয়েদের নতুন উৎসব ইংকটোবার


অনেক মানুষের মুখাবয়বের মাঝে কালো কালিতে লেখা, ‘আমি তো সস্তা! আপনার দাম কত?’ এর পাশে আঁকা চিত্রে আবার অনেক মানুষের মাথায় বাক্স পরানো। আছে সড়কে শিক্ষার্থীদের বাসের নিচে চাপা পড়ার ঘটনার ছবিও।


এই তিনটি চিত্রকর্ম দিয়ে আঁকিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন, দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থায় সবার মাথায় একই শিক্ষা ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সবার চিন্তাটাও সস্তা হয়ে যাচ্ছে। ব্যতিক্রম উদ্যোগ কম দেখা যাচ্ছে। যার একটি উদাহরণ পরিবহনব্যবস্থা। আঁকিয়ে বলছেন, সস্তা চিন্তা দিয়ে যুগের পর যুগেও পরিবহনব্যবস্থার পরিবর্তন হবে না।

এই চিত্রকর্মগুলোর আঁকিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী ঐশিক জাওয়াদ। তিনি বলছিলেন, শুধু কালো কালি দিয়ে আঁকা হয়েছে এই চিত্রগুলো। এমন চিত্রে অন্তর্নিহিত অর্থ থাকতেও পারে, না-ও পারে।

কালো কালি আর তুলি দিয়ে আঁকা বিভিন্ন আঁকিয়ের এমন ১৩৫টি চিত্রকর্ম নিয়ে ঢাকায় প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে প্রদর্শনীর। নাম, ইংকটোবার বাংলাদেশ ২০১৮। ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারের ইএমকে সেন্টারে প্রদর্শনীটির আয়োজন করেছে কার্টুন পিপল নামের একটি দল।

ইংকটোবার হলো অনলাইনে আঁকার প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার জন্য ছবি আঁকতে হয় কেবল কালো কালি দিয়ে। সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শেয়ার করতে হয়। ২০০৯ সালে যেটির শুরু করেছিলেন আমেরিকান কমিক বই আঁকিয়ে জ্যাক পার্কার। সে সময় অক্টোবর মাসজুড়ে শুধু কালি আর তুলি দিয়ে ৩১ দিনে ৩১টি ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা শুরু করেন তিনি। অক্টোবর মাসের সঙ্গে মিলিয়ে এর নাম দেন ইংকটোবার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে পার্কারের এই প্রতিযোগিতা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন দেশের আঁকিয়েরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শুরু করেন। ঢাকায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজক কার্টুন পিপল বলছে, বাংলাদেশে তিন-চার বছর ধরে আঁকিয়েরা নিজ উদ্যোগে এই ঘরানায় ছবি আঁকছেন। ২০১৭ সালে ছোট পরিসরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় একটি প্রদর্শনীও হয়েছিল। কিন্তু বড় পরিসরে এবারই প্রথম আয়োজন। এর উদ্দেশ্য আঁকিয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিয়ম মেনে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ছবি আঁকার চর্চা।
কার্টুন পিপল হলো বাংলাদেশি আঁকিয়েদের একটি দল। এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ রাশাদ ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, চলতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম থেকে কার্টুন পিপল ইংকটোবার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রদর্শনীর জন্য ফেসবুক গ্রপ ও ই-মেইলের মাধ্যমে আঁকিয়েদের চিত্রকর্ম জমা নেওয়া শুরু করে। সারা দেশ থেকে প্রায় এক হাজার চিত্রকর্ম জমা পড়ে। সেখান থেকে বাছাই করে সেরা ১৩৫টি চিত্রকর্ম ও ২৫টি স্কেচবুক নিয়ে প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

প্রদর্শনীতে নির্বাচিত ছবি ছাড়াও বাকি চিত্র দেখানো হচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। সৈয়দ রাশাদ ইমাম বলেন, এই উৎসব শুরুর সময় অনেকে মনে করেছিল, আমরা বিদেশি সংস্কৃতিতে চিত্র আঁকার চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রদর্শনীর চিত্রে আমাদের শহুরে জীবনযাপন, দেশীয় সংস্কৃতির নানা উপাদান, নারী, তারুণ্যের ভাবনার দিকগুলোই উঠে এসেছে। বিশ্বায়নের যুগে পার্কারের আঁকার ধরনটা শুধু অনুসরণ করা হয়েছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ভেনেসা কায়সারের চিত্র স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। ভেনেসা বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে ছবি আঁকলেও তিনি কালো কালি দিয়ে ছবি আঁকেন ছোটবেলা থেকে। কোনো কিছু আঁকার প্রাথমিক ধাপটাই হলো সাদাকালোতে আঁকা। এই ধাপে দক্ষতা আসার পরই তাতে রঙের ব্যবহার করা যায়। প্রদর্শনীটি শুরু হয়েছে ২ নভেম্বর। শেষ হবে ১৭ নভেম্বর। প্রতিদিন চলবে বেলা তিনটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ