Foto

ঢাকার দোকানদার টাঙ্গাইলে ’মস্ত বড়’ ডাক্তার!


প্রতিনিয়ত প্রতারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভুয়া চিকিৎসকরা। এবার জানা গেল ঢাকার এক দোকানদার টাঙ্গাইলে গিয়ে মস্ত বড় ডাক্তারের ভুয়া ডিগ্রি আর টাইটেল লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করছেন। এই ভুয়া ডাক্তারের নাম এফ এম শাহ সেকেন্দার (৪৭)। তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ডিবির ভ্রাম্যমাণ আদালত। টাঙ্গাইলে তিনি নিজেকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক বলে দাবি করতেন।


দীর্ঘদিন ধরে এই ভুয়া ডাক্তারকে নজরদারিতে রাখে পুলিশ। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই সেকেন্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার রোকনুজ জামান ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন।

জানা গেছে, শাহ সেকেন্দার ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা এলাকার ওমর আলী ফকিরের ছেলে। তিনি টাঙ্গাইলে নিজেকে বিসিএস ক্যাডার চিকিৎসক বলে পরিচয় দিতেন। পাশাপাশি সেখানে ’টাঙ্গাইল ক্লিনিক অ্যান্ড হসপিটালে’ গত পাঁচ মাস ধরে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগী দেখছিলেন। পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জানিয়েছে, এর আগে প্রায় ২০ বছর ধরে শাহ সেকেন্দার রাজধানীতে একটি ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রেতার কাজ করতেন।

জেলা ডিবির (দক্ষিণ) উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে টাঙ্গাইল ক্লিনিক অ্যান্ড হসপিটালে শাহ সেকেন্দার নামের এই ভুয়া ডাক্তারের খবর পাই। তার নেইম প্লেটেও ’বিসিএস ক্যাডার-স্বাস্থ্য’ লেখা। পরে ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসলে প্রকৃত ঘটনা জানা যায়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সেকেন্দার কোনো ডাক্তার নন বলে স্বীকার করেন। তিনি ঢাকায় ২০ বছর ধরে ঢাকায় একটি ওষুধের দোকানে থাকতেন। পরে জালিয়াতি করে ডাক্তার হন। তার ভুয়া সাইনবোর্ডসহ ভিজিটিং কার্ড পাওয়া গেছে। তিনি নিজেকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান বলে দাবি করতেন। এদিকে টাঙ্গাইলে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সঞ্জিত রায় কুমার।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ