Foto

ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড: দেশীয় উৎপাদকরা জোগান দিচ্ছে ৪০ ভাগ


ডিজিটাল লেনদেনে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কার্ড এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- এটিএম কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, পিওএস, স্ক্র্যাচ কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল লেনদেনে ব্যবহৃত কার্ড কয়েকটি কোম্পানি উৎপাদন করে সেগুলো বাজারজাত করছে।


দেশের ব্যাংকগুলোর চাহিদার ভিত্তিতে কোম্পানিগুলো এসব কার্ড উৎপাদন করে সরবরাহ করে। ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী এগুলোতে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযোজন করা হয়।

বর্তমানে দেশে ডিজিটাল লেনদেনে প্রায় দেড় কোটি কার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। এ হিসাবে ৬০ লাখ কার্ড সরবরাহ করে দেশীয় কোম্পানিগুলো। বাকি ৬০ শতাংশ আমদানি হচ্ছে। অর্থাৎ ৯০ লাখ কার্ড আমদানি হচ্ছে। বর্তমানে কার্ড আমদানিতে আড়াই শতাংশ শুল্ক আরোপিত রয়েছে।

যে কারণে দেশীয় কোম্পানিগুলোর কার্ড আমদানি করা কার্ডের চেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দেশীয় কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হচ্ছে।
উদ্যোক্তারা জানান, ২০০৭ সালে এই শিল্পে বিনিয়োগ শুরু হয়। পরে সরকার এ শিল্পে বেশকিছু সুবিধা দেয়। এ খাতের বিকাশে আমদানি করা কার্ডের ওপর আড়াই শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।

এতে দেশীয় কার্ড উৎপাদকরা সুবিধা পান। ইতিমধ্যে এ খাতে প্রায় শত কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণ ৬০ শতাংশের বেশি। বাকি অর্থ উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ। প্রযুক্তিনির্ভর এ খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কেননা এ খাতে আর্থিক খাতে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে। ফলে কার্ডের চাহিদাও বাড়ছে। এ কারণে কার্ড উৎপাদনের সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারেও জিডিটাল লেনদেন বাড়ছে। এ কারণে বিদেশেও কার্ডের চাহিদা বাড়ছে। মানের দিক থেকে যে কোনো দেশের কার্ডের সঙ্গে এটি প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম। যে কারণে বিদেশেও এ কার্ডের চাহিদা বাড়ছে। ফলে দেশ থেকে এ কার্ড রফতানির সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

সূত্র জানায়, ডিজিটাল লেনদেন নিরাপদ করতে বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে চিপ বেসড কার্ড বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশীয় কোম্পানিগুলো এসব চিপস উৎপাদন করছে, যা মাস্টার কার্ড, ভিসা কার্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল লেনদেনের হ্যাকিং প্রতিরোধে চিপ বেসড কার্ডই বেশি জনপ্রিয়। বাংলাদেশেও এটির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে উদ্যোক্তারা জানান, এ শিল্পকে সহযোগিতা করলে খাতটি আরও এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে এ খাতে নতুন কর্মসংস্থানের হার যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে অর্থনীতিতে এর অবদান। এ কারণে তারা এ শিল্পের স্বার্থে কার্ড আমদানিতে আড়াই শতাংশ আরোপিত শুল্ক বহাল রাখার পাশাপাশি কম সুদে ঋণ দেয়া ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেয়ার দাবি করেছেন।

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ