Foto

ডিএসইর ২৫% শেয়ার এখন চীনা জোটের


রাজধানীতে সোনারগাঁও হোটেলে মঙ্গলবার শেয়ার হস্তান্তর বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই এবং চীনের সেনজেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা । দেশের শেয়ারবাজার নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করল। এতদিন যা ছিল প্রক্রিয়ার মধ্যে, তা এখন বাস্তবতায়। আক্ষরিক অর্থেই দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অন্যতম প্রধান অংশীদার হলো বিশ্বের দুই শীর্ষ স্থানীয় স্টক এক্সচেঞ্জ সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে মনে করছে উভয় পক্ষ।


গতকাল সকালে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে চীনের শীর্ষ দুই স্টক এক্সচেঞ্জের অংশীদার হওয়ার ঘোষণা দেন ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হাশেম। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান, শরিফ আতাউর রহমান, হানিফ ভূইয়া, মিনহাজ মান্নান ইমন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। অন্যদিকে চীনা জোটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর পর্ষদে মনোনীত পরিচালক এবং সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের আইটি ব্যবস্থাপনা কমিটির উপমহাপরিচালক সি ওয়েনহাই এবং সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের আন্তর্জাতিক বিভাগের পরিচালক লিও ফুজং।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত ২৫ শতাংশের পুরোটা কিনতে ৯৬২ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ। এরপর ডিএসই কার্যালয়ে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধিদের কাছে শেয়ার সার্টিফিকেট হস্তান্তর করা হয়। প্রাপ্ত অর্থ থেকে স্টাম্প ডিউটি বাবদ এরই মধ্যে সরকারকে ১৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ৯৪৭ কোটি টাকা ডিএসইর প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে সমহারে বণ্টন করা হবে। 

অর্থের পুরোটা ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিনিয়োগ করবে কি-না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএসইর এমডি বলেন, শেয়ার বিক্রির টাকা শেয়ারহোল্ডারদের ব্যক্তিগত। এ টাকা তারা কী করবে, তা তাদের বিষয়। তবে প্রত্যেক ব্রোকারের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে। তারা এ টাকা শেয়ারবাজারেই বিনিয়োগ করবেন আশা করা যায়।

মাজেদুর রহমান বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত সংস্কারের উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালে সরকার ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন করে। আইন বাস্তবায়নের প্রধান ধাপ ছিল কৌশলগত অংশীদার নির্বাচন করা। সবার সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ এ ধাপটি মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। 

চীনের শীর্ষ দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পাওয়া ডিএসইর জন্য একটি গৌরবের বিষয় উল্লেখ করে ডিএসইর চেয়ারম্যান আবুল হাশেম বলেন, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শুধু যে স্টক এক্সচেঞ্জ উপকৃত হবে তাই নয়, এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। দেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতির যে ধারা রয়েছে, তাকে বেগবান করবে। সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের আইটি ব্যবস্থাপনা কমিটির উপমহাপরিচালক সি ওয়েনহাই বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক অনেক পুরনো। চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার। আবার উভয় দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বিশ্বের নজর কেড়েছে। চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের তুলনায় ডিএসইর অবস্থা নগণ্য হওয়ার পরও কোন তারা অংশীদার হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের আন্তর্জাতিক বিভাগের পরিচালক লিও ফুজং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের গল্প সবার জানা। আমরা জানি, এ দেশের সম্ভাবনা ব্যাপক। তাছাড়া চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। এ বিষয়টি এক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের এই প্রতিনিধি বলেন, চীনের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে বেশ আগ্রহী। ভবিষ্যতে ক্রস বর্ডার লেনদেন (দুটি দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন ও তালিকাভুক্তি) চালু করারও উদ্যোগ নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ভালো কোম্পানি ছাড়া শেয়ারবাজারের অগ্রগতি হবে না। বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে না। এ বিষয়ে এরই মধ্যে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

Facebook Comments

" শিল্প ও স্বক্রীয়তা " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ