Foto

ডাবল সেঞ্চুরির অপেক্ষায় এনামুল


আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কি ঘরোয়া, তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণির মায়াজালের কাছে বশ মানতে হচ্ছে সবাইকেই। এই তো গত মাসেই চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন তাইজুল।


বিসিএলেও ৬ উইকেট পেয়েছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। তাঁর ঘূর্ণিতেই সিলেটে চলমান বিসিএলের ষষ্ঠ রাউন্ডে প্রথম ইনিংসে ২২৪ রানে গুটিয়ে গিয়েছে বিসিবি মধ্যাঞ্চল। চট্টগ্রামে চলমান অন্য ম্যাচে বিসিবি উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন বিসিবি দক্ষিণাঞ্চলের এনামুল হক বিজয় ও আল আমিন। ১৫৫ রানে অপরাজিত আছেন এনামুল। চার দিনের ম্যাচে আজ শেষ হয়েছে দ্বিতীয় দিনের খেলা।

পূর্বাঞ্চল-মধ্যাঞ্চল (ভেন্যু-সিলেট)

মাহমুদুল হাসানের ৯৪, মমিনুল হকের ৮২ ও ইমরুল কায়েসের ৭৮ রানের ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪২৫ রান তোলে পূর্বাঞ্চল। জবাবে মধ্যাঞ্চল গুটিয়ে যায় ২২৪ রানে। ২০১ রানের লিড পেলেও প্রতিপক্ষকে ফলো অনে না পাঠিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমে ২ রান করে কোনো উইকেট না হারিয়ে আজ দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে পূর্বাঞ্চল।

৮ উইকেট হারিয়ে ৩৮০ রানে গতকাল প্রথম দিন শেষ করেছিল পূর্বাঞ্চল। আজ আবু জায়েদকে নিয়ে দিন শুরু করেছিলেন ৭৪ রানে অপরাজিত মাহমুদুল হাসান। সেঞ্চুরি থেকে তাঁকে ৬ রানের আক্ষেপে পোড়ান তাসকিন আহমেদ। ১৩৩ বলে ১১ চারে ৯৪ রানে আউট হন মাহমুদুল। একই ওভারে শূন্য রানে খালেদ আহমেদকে ফিরিয়ে পূর্বাঞ্চলের ইনিংসে সমাপ্তি টানেন জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়া তাসকিন। প্রথম ইনিংসে তাঁর উইকেট ৪টি। জবাবে তাইজুলের কাছেই হেরে ২২৪ রানে গুটিয়ে যায় মধ্যাঞ্চল। ৩১ ওভারে ৮ মেডেনসহ ৯২ রান দিয়ে ৬ ব্যাটসম্যানকে শিকার করেন তাইজুল। বাকি চারটির তিনটি নিয়েছেন অন্য দুই স্পিনার নাঈম হাসান ও খালেদ আহমেদ। নাঈম নিয়েছেন দুটি আর খালেদের একটাতেই সান্ত্বনা। অন্য উইকেটটি আবু জায়েদের।
ব্যাট হাতে কিছুটা লড়াই করেছিলেন মধ্যাঞ্চলের দুই ব্যাটসম্যান পিনাক ঘোষ ও মোসাদ্দেক হোসেন। সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেছেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন আর ওপেনার পিনাকের ব্যাট থেকে এসেছে ৫১। ২৪ রান করে করেছেন আব্দুল মজিদ ও জাকের আলি।

উত্তরাঞ্চল-দক্ষিণাঞ্চল (ভেন্যু-চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে উত্তরাঞ্চলের ২৯৩ রানের জবাবে ৫ উইকেট হারিয়ে ৪০৭ রান তুলেছে দক্ষিণাঞ্চল। সেঞ্চুরি করেছেন এনামুল হক বিজয় ও আল আমিন। সর্বোচ্চ ১৫৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন এনামুল। আর ১১ রানে স্বেচ্ছায় মাঠ ছাড়েন আল আমিন।

৫৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর আল আমিনের সঙ্গে এনামুলের ১৭৬ রানের জুটিতে পথে ফেরে দক্ষিণাঞ্চল। আল আমিন ১১০ রান করে স্বেচ্ছায় মাঠ ছাড়লে মেহেদী হাসানের সঙ্গে এনামুলের আরেকটি শত রান ছাড়ানো জুটিতে লিড নেয় দলটি। ৭৬ বলে ৭ চার ও ৩ ছয়ে ৮৪ রান করা মেহেদী বিদায় নিলে ভাঙে ১১৯ রানের এই জুটি। আর ৯৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে নাহিদুল ইসলাম (২৬) আউট হলে দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করলে ১৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন এনামুল।

২৮৩ বলের ইনিংসে ১৩টি আছে চার। কে জানে কাল হয়তো এনামুলের সামনে অপেক্ষা করছে ডাবল সেঞ্চুরি। উত্তরাঞ্চলের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন ইবাদত হোসেন ও সানজামুল ইসলাম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এনামুলের অবশ্য ডাবল সেঞ্চুরি আছে। ক্যারিয়ার-সর্বোচ্চ ২১৬ রানের ইনিংস খেলেছেন।

Facebook Comments

" ক্রিকেট নিউজ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ