Foto

ডাকসু পুনর্নির্বাচন দাবিতে লাল কার্ড, কালো ব্যাজ


বিক্ষোভের মুখেই দায়িত্ব নিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা। শনিবার ডাকসু ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে যখন নির্বাচিতদের প্রথম কার্যনির্বাহী সভা চলছিল, তখন নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি লাল কার্ড প্রদর্শন, কালো ব্যাজ ও মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের মাধ্যমে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।


এসব সংগঠনের পক্ষ থেকে ’প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন’ বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের দাবিও জানানো হয়েছে।

গত ১১ মার্চের ডাকসু নির্বাচনের পর নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয় ছাত্রদল, বাম সংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ ও স্বতন্ত্র জোট। এর পর থেকেই তারা পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে।

ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও কালো ব্যাজ ধারণ : উপাচার্য ও ডাকসু নির্বাচন-সংশ্নিষ্ট শিক্ষকদের পদত্যাগ ও পুনঃতফসিলের দাবিতে মুখে কালো কাপড় ও ক্যালো ব্যাজ ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে ছাত্রদল। শনিবার দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে ছাত্রদল প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাদের দাবির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, এটা স্পষ্ট। এর দায় নিয়ে উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে। এ ছাড়া যারা এই নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সময় সেখানে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোস্তাফিজুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের লাল কার্ড : ডাকসু নির্বাচনে কারচুপি ও ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে লাল কার্ড প্রদর্শন করেছে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ডাকসুর কার্যকরী সভা শেষ হলে তারা ডাকসু ভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় তফসিল ও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানায়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র মৈত্রী, ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি চলাকালে ডাকসু নির্বাচনের ভিপি প্রার্থী ও ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, পুরো নির্বাচন জালিয়াতির মাধ্যমে হয়েছে। তাই তারা বিতর্কিত প্রক্রিয়াকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন। পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ২৮ মার্চ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর বরাবর স্মারকলিপি দেবেন।

ছাত্র ফেডারেশনের মানববন্ধন : সকাল ১১টার পর ডাকসু ভবনের সামনে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধন করেছেন ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা। অভিষেক অনুষ্ঠান থেকেই পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর। একই সঙ্গে তারা ডাকসুতে সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ পদেও ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব চেয়েছেন। এ সময় নেতাকর্মীদের হাতে ’কারচুপির নির্বাচন মানি না, পুনর্নির্বাচন চাই’সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

এদিকে ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম আনুষ্ঠানিক উত্তোলনের ঘটনা স্মরণে ক্যাম্পাসে সমাবেশ ও পতাকা মিছিল করেছে জাসদ ছাত্রলীগ। মিছিল থেকে ’প্রহসনের নির্বাচন মানি না মানবো না’, ’কারচুপির নির্বাচন মানি না মানবো না’ স্লোগানও দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবীব শামীমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ