Foto

ঝড়ের সময়ে কখনোই করবেন না যে ১৩টি কাজ


আপনার জীবন বাঁচাতে পারে এ তথ্যগুলো। বাইরে ঝড়বৃষ্টি হলে ঘরে চলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। সবাই এ সময়ে নিরাপদ থাকতে চান। কিন্তু ঘরে থাকুন আর বাইরে, এ সময়ে কিছু কাজ করলে বজ্রাহত হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়। জেনে নিন, যে কাজগুলো ঝড়-বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সময়ে ভুলেও করা যাবে না- ১) শাওয়ার নেওয়া আপনার বাড়িতে যদি বাজ পড়ে এবং আপনি সে সময়ে শাওয়ার ছেড়ে তার নিচে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাহলে আপনার বজ্রাহত হবার ঝুঁকি থাকে। কারণ পানি ও পানির পাইপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হতে পারে। এ সময়ে কলের পানিতে হাত ধোয়াটাও ঝুঁকিপূর্ণ।


২) কাঠের নিচে দাঁড়ানো

বজ্রপাতের সময়ে গাছের নিচে দাঁড়ানোটা খুবই বিপজ্জনক। গাছে বাজ পড়লে তা আপনার শরীরেও প্রবাহিত হতে পারে। এর পাশাপাশি কাঠ দিয়ে তৈরি কোনো কাঠামোর নিচে দাঁড়ানোও বিপজ্জনক।

৩) খোলা জায়গায় দাঁড়ানো

গাছের নিচে দাঁড়ানোর চেয়েও খোলা জায়গায় দাঁড়ানো বিপজ্জনক। বাসার ছাদ, বারান্দা, পার্ক, মাঠ এসব জায়গা থেকে দূরে থাকুন। বাজ পড়ার শব্দ শুনতে পাওয়ার সাথে সাথেই ঘরের ভেতর বা কোনো ভবনের ভেতর আশ্রয় নিন।

৪) কংক্রিট স্পর্শ করা

কংক্রিটের দেয়াল ও মেঝের ভেতরে ধাতব রডের কাঠামো থাকে, এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে। বজ্রপাতের সময়ে খালি পায়ে কংক্রিটের মেঝেতে হাঁটবেন না এবং কংক্রিটের দেয়ালে হেলান দেবেন না।

৫) খোলা জায়গায় শুয়ে পড়বেন না

কোনো এলাকায় সবচেয়ে উঁচু জিনিসটির ওপর সবসময় বাজ বড়ে। এজন্য অনেকেই ভাবেন মাটিতে শুয়ে পড়লে তার ওপর বাজ পড়বে না। কিন্তু আশেপাশে মাটিতে বাজ পড়লে তাতেও আপনার আহত হবার ঝুঁকি থাকে। ঝড়ের সময়ে মাটিতে না শুয়ে বরং উবু হয়ে বসে মাথা নিচু করে রাখুন এবং কান ঢেকে ফেলুন।

৬) ঝড়ের ঠিক পরে বাইরে বের হওয়া

বজ্রপাত ও ঝড় বন্ধ হবার অন্তত ৩০ মিনিট পর বাইরে বের হওয়া উচিত।

৭) ল্যান্ডফোন ব্যবহার করা

মোবাইল ফোনের এ সময়ে ল্যান্ডফোনের ব্যবহার উঠেই গেছে প্রায়। তবুও অনেকের বাসায় তা থাকতে পারে। কিন্তু বাজ পড়ছে এমন সময়ে তা ব্যবহার করা ঠিক নয়। এছাড়া ল্যাপটপ বা অন্যান্য গ্যাজেটও ব্যবহার বন্ধ রাখা উচিত। অন্যদিকে ঝড় শুরু হয়ে যাবার পর টিভি বা ফ্রিজের প্লাগ খোলার চেষ্টা করাটাও বিপজ্জনক। মোবাইল ফোন চার্জার থেকে খোলা থাকলে সেটা দিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন নিশ্চিন্তে।

৮) ধাতব অলংকার ও সামগ্রী খোলা

আমাদের শরীরে সবসময়েই ধাতব কিছু আছে। ছোট একটা কানের দুল, গলার চেইন, হাতের ঘড়ি বা কোমরের বেল্ট বাকল। ধাতুর মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয় বলে বাজ পড়ার শব্দ শুনলেই অনেকে শরীর থেকে এসব ধাতব সামগ্রী খুলে ফেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তা আসলে অপ্রয়োজনীয়। এত অল্প ধাতব আসলে বজ্রপাতকে আকর্ষণ করে না। এতে সময় নষ্ট না করে বরং দ্রুত ঘরের ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করুন।  হ্যাঁ, কিছু ধাতব জিনিস এ সময়ে ব্যবহার করা বিপজ্জনক বটে, যেমন ধাতব শিক দিয়ে তৈরি ছাতা।

৯) বজ্রাহত মানুষকে সাহায্য করুন

অনেকেই ভাবে বজ্রাহত মানুষের শরীর স্পর্শ করলে সুস্থ মানুষটিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হবেন। কিন্তু তা ভুল ধারণা। মানুষের শরীরে বিদ্যুৎ জমা থাকে না। আপনি যদি চোখের সামনে কাউকে বজ্রাহত হতে দেখেন তাহলে দ্রুত তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিন।

১০) কয়েকজন মানুষ একসাথে জড়ো হওয়া

বজ্রপাতের সময়ে একসাথে কয়েকজন জড়ো না হয়ে আলাদা আলাদা থাকুন। এতে একজন বজ্রাহত হলেও বাকিদের আক্রান্ত হবার ঝুঁকি কমে।

১১) পোষা প্রাণীকে বাইরে রাখা

পোষা কুকুরকে গাছের সাথে বেঁধে রাখাটা খুবই বিপজ্জনক, এতে সে বজ্রাহত হতে পারে। এছাড়া বাড়ির বাইরে ডগ হাউজে রাখাটাও নিরাপদ নয়। কুকুর বিড়াল বা পাখি- এসব পোষা প্রাণীকে বজ্রপাতের সময়ে ঘরের ভেতরেই রাখুন।

১২) জানালার কাছে দাঁড়ানো

বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, বাজ পড়ছে এমন অবস্থায় অনেকেই প্রকৃতি দেখেন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে। কিন্তু জানালায় ধাতব অংশ থাকলে এর পাশে দাঁড়ালেও আপনার বজ্রাহত হবার ঝুঁকি থাকে।

১৩) ভেজা কিছু স্পর্শ করা

পানি বজ্রপাতকে আকর্ষণ করে না বটে, কিন্তু পরিবহন করে ঠিকই। আপনি যদি পানিতে সাঁতার কাটতে থাকেন বা ভেজা কিছুর সংস্পর্শে থাকেন, তাহলে বজ্রাহত হবার ঝুঁকি বাড়ে।

Facebook Comments

" লাইফ স্টাইল " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ