Foto

ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেত তামিমের ক্যারিয়ার


এশিয়া কাপ নিয়ে কত আশাই না ছিল তামিমের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে বয়ে আনা দুরন্ত ফর্মটাকে মরুর দেশেও ছুটিয়ে দেবেন। দুর্ভাগ্য, কাল তাঁকে ফিরে আসতে হচ্ছে দেশে। তামিম ইকবালের সাহসিকতা এখন মানুষের মুখে মুখে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে তাঁর ওই সিদ্ধান্ত। তবুও তাঁর মন ভালো থাকার কথা নয়। তামিমের এশিয়া কাপ শেষ, সেটা জানা হয়েছে আগেই। বাঁহাতি ওপেনার কাল বিকেলে ফিরে আসছেন দেশে। তাঁর এশিয়া কাপটা শেষ হয়ে গেলেও তামিমের বীরত্বের গল্প যে শেষ হওয়ার নয়। সেদিন দলের ফিজিওর কাছ থেকে কড়া নির্দেশনা ছিল। ব্যাটিং করা দূরের কথা, তামিম যেন একটা দৌড়ও না দেন।


ড্রেসিংরুমের ওই সময়ের কথা বলতে গিয়ে কাল তামিম কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, ‘ফিজিও কোনোভাবেই রাজি হচ্ছিল না। আমার দৌড়ানো নিষেধ, ব্যাটিং করার তো প্রশ্নই আসে না। ওদিকে আঙুল বের করে রাখার জন্য মাশরাফি ভাই হাতের গ্লাভস কেটে দিচ্ছেন, আমাকে প্যাড পরিয়ে দিচ্ছেন। তখনো নামব কি না ঠিক নেই। কিন্তু যখন দেখলাম মোস্তাফিজ আউট হওয়ার পর ওই ওভারে আর একটা বলই আছে, তখন নিজেই বললাম, আমি পারব।’ নিষেধ করলেন কোচ স্টিভ রোডসও, ‘এতটা ঝুঁকি নিয়ো না।’ কিন্তু তামিমের মনে হলো, তিনি পারবেন, ‘কেন জানি আমার মনে হচ্ছিল, আমি একটা বল খেলতে পারব। পরে তো দৌড়ালামও। আসলে মাঠে নেমে গেলে আর এত কিছু খেয়াল থাকে না।’

এবার তামিমের শুরুটাই যেন ছিল অমঙ্গল-বার্তায়। এশিয়া কাপ খেলতে দল চলে গেল দুবাই, অথচ তামিমের ভিসাই আসে না। সেটি যখন এল, তাতে নেই বাবার নাম। পাসপোর্ট নম্বরও দেওয়া পুরোনোটি। এই ভিসা নিয়ে প্রথমে দুবাই যেতে রাজি ছিলেন না তামিম। পরে বিসিবি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের আশ্বাসেই তাঁর বিমানে উঠে বসা।

ভালোয় ভালোয় দুবাইয়ে পৌঁছালেও আগেই পাওয়া ডান হাতের তর্জনীর চোট নিয়ে মনের মধ্যে খচখচানি ছিল। খেলতে নামলে যদি আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ব্যথা! তামিম মনে মনে ভাবলেন উল্টোটাও তো হয়। পরশু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে নামলেন মনের মধ্যে গোপন আশা নিয়ে, ‘আমার ডান হাতেও চোট। তবে মনে মনে আশা ছিল অনেক সময় ম্যাচ খেললে খেলার চাপে অনেক কিছু ঠিক হয়ে যায়। ওই সব আর মাথায় থাকে না। এখানেও যদি তা-ই হয়। কিন্তু উল্টো যে এটা হয়ে যাবে, তা তো বুঝিনি। একটা হাত ঠিক হতে না হতেই আরেকটা হাত ভেঙে গেল!’

এশিয়া কাপ নিয়ে কত আশাই না ছিল তামিমের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে বয়ে আনা দুরন্ত ফর্মটাকে মরুর দেশেও ছুটিয়ে দেবেন। ডান হাতে একটু চোট ছিল, সেটিকে তুচ্ছ করে বাক্সপেটরা গুছিয়ে গেলেন দুবাই। দুর্ভাগ্য, ওই বাক্সপেটরা নিয়েই কাল ফিরে আসতে হচ্ছে দেশে।

সব এলোমেলো করে দিয়েছে সুরঙ্গা লাকমলের একটি শর্ট বল পুল করতে গিয়ে বলটা লাগল তামিমের বাঁ হাতে। মাঠ থেকে সোজা হাসপাতাল। স্ক্যান রিপোর্টে চিড় ধরা পড়ল দুই জায়গায়। তামিম নিজেই কাল বললেন, ‘ঘুষি পাকালে হাতের যে চারটা হাড় বেরিয়ে থাকে, তর্জনীর ওখানটাতেই দুই জায়গায় ভেঙেছে।’ প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা বলেছেন, ছয় সপ্তাহের মতো লাগবে সেরে উঠতে। তবে যদি অস্ত্রোপচার লাগে, সময় লাগবে আরও বেশি। কাল আবারও চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করবেন তামিম, করাবেন আরেকটি স্ক্যান। হয়তো এ স্ক্যান দেখেই তামিমের দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এশিয়া কাপটা শেষ হওয়ায় তামিমের আক্ষেপের শেষ নেই, ‘মনটা প্রচণ্ড খারাপ। কতটা তা বুঝিয়ে বলতে পারব না। আমার অনেক আশা ছিল এই টুর্নামেন্ট নিয়ে। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য অসাধারণ। সেটাও নাহয় বাদ দিন। আমি এত ভালো অবস্থায় ছিলাম, এখানে এত বড় একটা ইভেন্ট খেলতে এলাম...কিন্তু কিছুই করা হলো না!’

কে বলেছেন তামিম কিছুই করেননি? তাঁর ওই ২ রান, তাঁর ওই ১ বল খেলা যে ডাবল সেঞ্চুরির চেয়ে বেশি মর্যাদা পাচ্ছে সবার কাছে!

Facebook Comments

" ক্রিকেট নিউজ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ