Foto

জামায়াতে ইসলামীকে বিএনপি পরিত্যাগ না করলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কামাল


একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীকে বিএনপি পরিত্যাগ না করলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন’ বলে আশা করছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।


জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত যে ‘ভুল’ ছিল, তা স্বীকার করায় কামাল হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

সচিবালয়ে রোববার তথ্য মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সমন্বয় সভায় সূচনা বক্তব্যে এ বিষয়ে কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “জামায়াতকে সাথে নিয়ে তারা যে নির্বাচন করেছেন, এই ভুলটি যে স্বীকার করেছেন, এটার মাধ্যমে ড. কামাল হোসেনসহ অন্য যারা মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করেছেন, তারা যে রাজনীতির ক্ষেত্রে ও নির্বাচনের ক্ষেত্রে পদে পদে ভুল করেছেন সেটি তারা স্বীকার করে নিয়েছেন।”

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে তোলেন গণফোরাম সভাপতি কামাল। গণফোরামের প্রার্থীরা যেমন এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করেছেন, তেমনি বিএনপির পুরনো জোটসঙ্গী নিবন্ধনহীন জামায়াতের নেতারাও ওই প্রতীকেই প্রার্থী হয়েছেন।

সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা কামাল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সময় জামায়াতের সঙ্গে নিজের আদর্শিক মতভিন্নতার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তার দল জামায়াতের সঙ্গে একই প্রতীকে ভোটে নামার পর এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। এমনটি একবার প্রশ্নকর্তা সাংবাদিককে ‘খামোশ’ বলে ধমকও দিয়েছিলেন।

অবশ্য ভোটের ঠিক আগে ভারতের সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বিএনপি যে জামায়াতকে সঙ্গে রাখবে তা তিনি ‘জানতেন না’।

আর ভোটের প্রায় দুই সপ্তাহ পর শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে কামাল ‘ভুল স্বীকার’ করে বলেন, “আমি বলেছি যে, ভাই এটা তো আমার জানাই ছিল না। তখন ওরা (বিএনপি) বললো না যে জামায়াতের ২৫ জন না কত .., আমি যখন এখানে সম্মতি দিয়েছি, সেটা আমাকে জানানো হয় নাই। আমরা মতে সেটাও একটা ভুল করা হয়েছে।”

কামালের এই স্বীকারোক্তিকে সাধুবাদ জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, “এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে আমি মনে করব তারা জামায়াতকে পরিত্যাগ করবেন এবং জামায়াতকে যদি বিএনপি পরিত্যাগ না করে তবে কামাল হোসেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, সেটাই আশা করি।”

নির্বাচনে বিজয়ী ঐক্যফ্রন্টের আট প্রার্থীর শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে এই জোটের আরেকটি ‘ভুল’ হিসেবে চিহ্নিত করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমি আশা করব তারা যে ইতোমধ্যে একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে আছেন, তাদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথগ্রহণ করবে না, সেই ভুল সিদ্ধান্তটাও তারা পরিবর্তন করে গণতন্ত্রকে সংহত করার জন্য গণতন্ত্রের অভিযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য… তারা শপথগ্রহণ করবেন।”

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ