Foto

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পুনর্নির্বাচনের দাবি অযৌক্তিক: আইনমন্ত্রী


জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পুনর্নির্বাচনের দাবি 'অসাংবিধানিক ও অত্যন্ত অযৌক্তিক' বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়েছেন, তাই জনগণকে অপমান করার অধিকার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেই। তাই তাদের দাবি মোটেই সমীচিন নয়, অযৌক্তিক। মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক (জেলা জজ) মো. জাফরোল হাসানের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


নারীর শিক্ষা নিয়ে হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বক্তব্য প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, তার এই বক্তব্যে পরিহার করা উচিত।

তিনি বলেন, গতবছর প্রধানমন্ত্রী কওমি মাদ্রাসার সনদকে সমমানের যে স্বীকৃতি দিয়েছেন, সেটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। আল্লামা শফী একজন বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ। আমি তাকে শ্রদ্ধাভরে বলতে চাই, তার এসব উক্তিগুলো দেশের ইতিবাচক উন্নয়নের বিপরীতে যায়। তাই এ ধরনের বক্তব্য পরিহার করা ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি।

আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ন সচিব বিকাশ কুমার সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাখেন আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক, যুগ্ম সচিব গোলাম সারওয়ারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। এ সময় আইনমন্ত্রণালয়, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন ব্লাস্ট, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নারী শিক্ষা নিয়ে আল্লামা শফীর বক্তব্য ব্যক্তিগত উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আল্লামা শফী যা বলেছেন আমি মনে করি এটা তার ব্যাক্তিগত অভিমত। একজন মানুষের ব্যক্তিগত অভিমত থাকতেই পারে। কিন্তু তার এসব বক্তব্য দেশ পরিচালনা বা নীতির কোনো পরিবর্তন আনবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নারী অধিকারের প্রতি প্রতিজ্ঞাতাবদ্ধ, সেটা আরও দৃঢ় হবে এবং এগিয়ে যাবে। এটাই এই সরকারের বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে আইনি সেবা পৌঁছে দিতে না পারলে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার কোন মূল্য থাকবে না। তাই আইনি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করার জন্য সংস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই সংস্থার অধীন লিগ্যাল এইড অফিসারের সকল শূণ্যপদ পূরণ করা হবে। জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা হবে। এসময় তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই সাক্ষ্য আইন এবং বৈষম্য বিরোধ আইন উত্থাপনের লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার জুমআর নামাজের পর মেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার ১১৮তম মাহফিল ও দস্তারবন্দি সম্মেলনে বক্তব্য দেন হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

তিনি বলেন, আপনাদের মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজে পড়াবেন না। বেশি হলে ক্লাস ফোর-ফাইভ পর্যন্ত পড়াতে পারবেন। আর বেশি যদি পড়ান পত্রপত্রিকায় দেখতেছেন আপনারা। ওই মাইয়া ( মেয়ে) ক্লাস এইট, নাইন, টেন, এমএ ও বিএ পর্যন্ত পড়ালে কিছু দিন পর আপনার মেয়ে থাকবে না। তাই আপনারা আমার সঙ্গে ওয়াদা করেন। বেশি পড়ালে আপনার মেয়েকে টানাটানি করে অন্য পুরুষ নিয়ে যাবে। আমার এ ওয়াজটা মনে রাখবেন।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ