Foto

চূড়ান্ত অনুমোদন পেল সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল


বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাশে যমুনা নদীর তীরে বেসরকারি উদ্যোগে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বেজা। ১১ কোম্পানির মিলিত উদ্যোগে এক হাজার ৩৬ একর জমির ওপর নির্মিতব্য ‘সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ হবে বেসরকারি খাতে দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল। বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারে বেজার কার্যালয়ে ‘সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ কর্তৃপক্ষের হাতে লাইসেন্স তুলে দেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে এ কোম্পানিকে প্রাক যোগ্যতা সনদ দিয়েছিল বেজা। ১৪ মাসের কাজের অগ্রগতি দেখে এবার দেওয়া হল চূড়ান্ত লাইসেন্স।


নিট এশিয়া গ্রুপ, রাইজিং গ্রুপ, ইসকয়ার গ্রুপ, এসএম গ্রুপ (আরকে সিরামিক), টেক্সটাউন গ্রুপ, রাতুল গ্রুপ, মানামি ফ্যাশন লিমিটেড, প্যারাগন গ্রুপ, মাহমুদ গ্রুপ ও চেইঞ্জ বাংলাদেশ লিমিটেড এবং মো. কামরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডের অংশীদার হিসেবে রয়েছেন।

এ প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিসেবা ও অন্যান্য সুবিধা স্থাপনের জন্য মোট বিনিয়োগ ধরা হয়েছে দুই বিলিয়ন ডলার।

মালিক পক্ষ বলছে, চলতি বছরই তারা ভূমি উন্নয়নের কাজে হাত দেবে। ২০২৩ সালের মধ্যে পুরোপুরি বস্তবায়ন হলে এখানে ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেক্সটাইল, আপ্যারেল ও পাটজাত দ্রব্য, ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পাল্প ও কাগজ, সিরামিক, কেমিকেল দ্রব্য, অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক, প্লাস্টিক, চামড়াজাত পণ্য/জুতা, আইটি পার্ক, গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ, ফার্নিচার, এলপিজি টার্মিনাল, স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রক্রিয়াজাত মৎস্য এবং জাহাজ শিল্প স্থাপন করা যাবে।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করা হবে। এখানে কেন্দ্রীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (সিইটিপি), ডরমিটরি, ফাইভ স্টার হোটেল, স্বাস্থ্য সেবা, ডে কেয়ার, বিনোদন কেন্দ্রসহ বাণিজ্যিক এলাকা গড়ে তোলা হবে।

অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “উত্তরাঞ্চলের প্রবেশ মুখে এটি দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল। ভৌগলিকভাবে ও যোগাযোগের জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এ অঞ্চলে বেশি আগ্রহী হবেন। জাতীয় গ্রিডে এলএনজি যুক্ত হলে গ্যাস সঙ্কটও দূর হবে। ফলে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যত দেখা যাচ্ছে।”

সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডের চেয়ারম্যান এ মতিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে বলেন, “এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রায় ১০০ বিঘা জমির ব্যবস্থা রেখে মাস্টার প্ল্যান করা হয়েছে। এছাড়া ভূমি উন্নয়নের প্রস্তুতিমূলক কাজও শেষ করা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে এ মাসের শেষ নাগাদ ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।”

অন্যদের মধ্যে বেজার নির্বাহী সদস্য মো. হারুনুর রশিদ, মোহাম্মদ আইয়ুব, সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিমিটেডের উদ্যোক্ত ও পরিচালক মাহামুদ হাসান খান, আনোয়ার হোসেন, আমিনুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, মো. নজরুল ইসলাম ও শেখ মনোয়ার হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ