Foto

চীনা বন্দিশিবির থেকে ফিরে যা বললেন নির্যাতিত মুসলিম নারী


চীনে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানদের আটক রাখা ক্যাম্প থেকে ফিরে আসা নারী আইবোটা সেরিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ওই ক্যাম্পে আমি ৭ দিন ছিলাম। আমার মনে হয়েছে ওই কয়েকদিন আমি জাহান্নামে ছিলাম।


ক্যাম্প থেকে ফিরে আসা আইবোটা সেরিক বলেন, ’ওই ক্যাম্পে আমি সাতদিন ছিলাম। আমার মনে হয়েছে ওই কয়েকটা দিন আমি জাহান্নামে ছিলাম। সেখানে আমাকে হাতে হাতকড়া পড়িয়ে, পা এবং চোখ বাঁধা অবস্থায় অন্ধকার কক্ষে আটক রাখা হয়েছে। আমাকে হাত উপরের দিকে তুলতে বলে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হতো। আমি তখন শুধু চিৎকার করতাম। এ সময় আমি অজ্ঞান হয়ে পড়তাম। আমার আর কিছু মনে পড়ে না। তারা বলতো আমরা দৈত নাগরিকরা দেশের শত্রু, বিশ্বাসঘাতক’। কাজাখ বংশোদ্ভূত ওই নারী ছাড়াও এই ক্যাম্প থেকে ফিরে আসা অন্যান্যরাও এটিকে একটি বন্দিশালা হিসেবেই অবহিত করেছেন।

সেরিকের পিতা চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় ঝিজিয়ান প্রদেশের তেচেং এলাকার একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে ২০১৮ সালের তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোন খোঁজ মেলেনি।

দেশটির পুলিশ সেরিকের পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে দাবি করলেও গত এক বছরে তার কোন সন্ধান পাননি পরিবারের লোকজন। কাজাখস্তানের আদালত প্রাঙ্গনে পিতার একটি ছবি দেখিয়ে সেরিকা সাংবাদিকদের জানান, ’আমি জানি না আমার বাবার কী দোষ ছিল। আমার জানা মতে, আমরা এ দেশের কোন আইন ভঙ্গ করিনি’। পিতার নিখোঁজ হওয়া ও ক্যাম্পে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা করতে গিয়ে এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন সেরিকা।


এদিকে মানবাধিকার কর্মীরা ক্যাম্পে আটককৃতদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ’সেখানে আটক বন্দিরা কোন আইনি সহায়তা তো পানই না, বরং তাদের সঙ্গে পরিবার পরিজনদের দেখাও করতে দেওয়া হয়না। শুধুমাত্র মুসলমান হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে বিনা করণে আটক করে রাখা হচ্ছে তাকে’।

তবে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানদের এমন ক্যাম্পে আটকে রাখার কথা দীর্ঘদিন থেকেই অস্বীকার করে আসছে চীন। চীনা কর্মকর্তারা এটিকে বিনামূল্যে ভকেশনাল টেনিং সেন্টার বললেও এই ক্যাম্পের বিরুদ্ধে উঠেছে বিভিন্ন অভিযোগ।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের হিসাব মতে শুধু ঝিজিয়ান প্রদেশের বন্দিশিবিরেই ১০ লাখের মতো উইঘুর ও কাজাখ বংশোদ্ভূত মুসলমান আটক রয়েছেন।

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ