Foto

চট্টগ্রামে পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তির সীমা নেই


চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ থানা এলাকার বাসিন্দা নাসিরুল হক। শরীরে দেখা দেওয়া জটিল রোগের চিকিৎসা করাতে চিকিৎসকের পরামর্শে ভারতে যেতে শুরু করেন তোড়জোড়। দ্রুত পাসপোর্ট পেতে ব্যাংকে জরুরি ভিত্তিতে (ইমার্জেন্সি) টাকা জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পাসপোর্ট তৈরির আবেদন জমা দেন অফিসে। কিন্তু ইমার্জেন্সির ফি জমা দিলেও এক মাসেও হাতে আসেনি পাসপোর্ট।


চকরিয়ার বাসিন্দা ইফতেখার উদ্দিনের বড় বোনের ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে চেন্নাই যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এখানকার চিকিৎসকরা। দ্রুত ভারতে যাওয়ার জন্য ইমার্জেন্সি ফি জমা দিয়ে পাসপোর্টের আবেদন করেন তিনিও। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে পাসপোর্ট হাতে না আসায় যেতে পারেননি চিকিৎসা করাতে। নিয়ম অনুযায়ী ইমার্জেন্সির পাসপোর্ট সাত কর্মদিবসের মধ্যে পাওয়ার কথা কাগজেকলমে থাকলেও বাস্তবের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন।

চট্টগ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দাকে পাসপোর্ট পেতে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। চট্টগ্রামের দুই পাসপোর্ট অফিস পাঁচলাইশ ও মনসুরাবাদে প্রতিদিন কয়েকশ’ পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়লেও হাতে মিলছে না অধিকাংশ পাসপোর্ট। কয়েক মাস ধরে চলা পাসপোর্ট অফিসের এমন কচ্ছপগতির সেবায় এক প্রকার হাঁপিয়ে উঠেছেন আবেদনকারীরা।

সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা জমা দিয়ে নির্ধারিত ২১ কর্মদিবসের মধ্যে গ্রাহকদের পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়ার বিধান থাকলেও সেটি দেড় থেকে দুই মাস এবং জরুরি (ইমার্জেন্সি) ক্যাটাগরিতে ৬ হাজার ৯০০ টাকা জমা দিয়ে নির্ধারিত সাত কর্মদিবসের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ দিনে গ্রাহকরা পাসপোর্ট ডেলিভারি পাওয়ার কথা। কাগজেকলমে এটা থাকলেও এক মাস সময়ের পরও হাতে মিলছে না পাসপোর্ট।

এ প্রসঙ্গে পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ আল আমিন মৃধা বলেন, ’আমাদের কাছে যেসব পাসপোর্টের আবেদন আসে, তা এখানকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকায় পাঠানো হয়। কিন্তু ঢাকা থেকে প্রিন্ট হয়ে তা চট্টগ্রামে না এলে আমাদের কিছুই করার থাকে না। বেশকিছু দিন ধরে এমন অবস্থা বিরাজ করছে। সামান্য কিছু পাসপোর্ট প্রিন্ট হলেও কয়েক হাজার পাসপোর্ট এখনও ঢাকা থেকে প্রিন্ট হয়ে আসেনি। প্রিন্টারের সমস্যার কারণে পাসপোর্ট ডেলিভারির জট সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রিন্ট হওয়ার কথা আমাদের জানানো হয়েছে।’

মনসুরাবাদ পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক আবু নোমান মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ’কিছুদিন ধরে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পাসপোর্ট প্রিন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আগে যে সংখ্যক পাসপোর্ট প্রিন্ট হতো, বর্তমানে তেমন হচ্ছে না। আমাদের কাছে আবেদনের পর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাৎক্ষণিক ঢাকায় প্রেরণ করি। এর পরবর্তী কাজ সেখানকার। সর্বক্ষণ আমরা ঢাকায় যোগাযোগ করছি। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যে চলমান সমস্যার সমাধান হবে।’

পাসপোর্ট অফিসের সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন দুটি অফিসে নতুন পাসপোর্ট তৈরিসহ নবায়নের জন্য কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়ে। প্রতিদিন জমা হওয়া আবেদনগুলোর সব প্রক্রিয়া এখানে সম্পন্ন করে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকা থেকে প্রিন্ট হয়ে চট্টগ্রামে আসার পর সেসব পাসপোর্ট আবেদনকারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক মাস ধরে চট্টগ্রাম থেকে যে হারে পাসপোর্ট পাঠানো হচ্ছে, সে হারে প্রিন্ট হয়ে পাসপোর্ট আসছে না। দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ২০০টি পাসপোর্ট পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে প্রিন্ট হয়ে আসছে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি পাসপোর্ট। বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হচ্ছে।

কয়েকটি হজ এজেন্সির কর্মকর্তারা জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট না পাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেতে পারছেন না অনেকে। ইমার্জেন্সি ফি দিয়ে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেও নির্দিষ্ট সময়ে মিলছে না পাসপোর্ট। পাসপোর্ট হাতে না পাওয়ায় অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে। পাসপোর্ট না পাওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সবাইকে।

নগরের বায়েজিদ থেকে মনসুরাবাদ পাসপোর্ট অফিসে আসা আবেদনকারী মোসলেম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ’বেশকিছু দিন ধরেই নির্দিষ্ট সময়ে পাসপোর্ট মিলছে না। কিন্তু অফিসের লোকদের নানাভাবে ম্যানেজ করলে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যাচ্ছে। আমার পরিচিত দুইজন আমার পরে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে পাসপোর্ট হাতে পেয়েছে। অথচ আমি ইমার্জেন্সি ফি দিয়ে এখনও পাসপোর্ট পাইনি।’

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ