Foto

চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে অস্থিরতা


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমদানি করা চায়না রসুনের প্রতি কেজির দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। চায়না আদা প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে। মুগডালের দাম মণপ্রতি বেড়েছে ৬০০ থেকে ৬৮০ টাকা।


দেশি ও আমদানি সব ধরনের চালের দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। চিনির দাম বেড়েছে মণপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। পাম অয়েলের দাম বেড়েছে মণপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা। কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম।

এসব নিত্যপণ্যের পাশাপাশি বছরের শুরুতেই দাম বেড়েছে মসলাজাতীয় পণ্য, মাছ, সবজিসহ প্রায় সবকিছুর। দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ ও চট্টগ্রাম নগরের প্রধান ছয় বাজার- রেয়াজউদ্দিন, বহদ্দারহাট, কাজির দেউড়ি, কর্ণফুলী, স্টিল মিল ও চকবাজার সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে। নতুন বছরের শুরুতেই নিত্যপণ্যের এমন অস্থিরতায় কষ্টে আছে সাধারণ মানুষ। ভবিষ্যতে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন তারা। দাম কমাতে সরকারসহ সংশ্নিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন ব্যবসায়ীসহ সংশ্নিষ্টরা।

সরেজমিন দেখা গেছে, গত বছরের শেষের দিকের তুলনায় নতুন বছরের শুরু থেকে প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। দেশি ও আমদানি করা প্রায় সব ধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত।

খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে পাম অয়েলের দাম মণপ্রতি (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) বেড়েছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। প্রতি মণ পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ২০২০ থেকে ২০৫০ টাকায়। নির্বাচনের আগে এর দাম ছিল ১ হাজার ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা। চিনির দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৮০ থেকে ১৭০০ টাকায়। আগে ছিল ১ হাজার ৫৮০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা। আগে প্রতি কেজি চিনি ৪৮ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৩ টাকায়।

খাতুনগঞ্জে ডালজাতীয় পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মুগডালের দাম। নির্বাচনের আগে প্রতি মণ মুগডালের দাম ছিল

৩ হাজার ২৩০ থেকে ৩ হাজার ২৬০ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯২০ টাকায়। আগের তুলনায় মসুরের দামও বেড়েছে প্রতি মণে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা প্রতি মণ ছোলা ছিল ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৪৫০ টাকা। বর্তমানে এর দাম ২০০ থেকে ২২০ টাকা মণপ্রতি বেড়েছে। নির্বাচনের আগে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৫ থেকে ১৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা।

বেড়েছে মসলাজাতীয় পণ্যের দামও। আগের তুলনায় বর্তমানে প্রতি কেজি এলাচে প্রায় ৮০ টাকা ও জিরার দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম নির্বাচনের আগে ১১৫ টাকা থাকলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। বেড়েছে মাছের দামও। অন্যান্য বছর শীতের মাঝামাঝি এই সময়ে শাকসবজির

দাম কম থাকলেও এবার ঊর্ধ্বমুখী।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ সমকালকে বলেন, বছরের শুরু থেকে বেশকিছু পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। কয়েক মাস ধরে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি ও অন্যান্য সংকটের কারণে পণ্য আমদানি আগের চেয়ে কমে গেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরবরাহ কিছুটা কম। তবে দাম এক সপ্তাহের মধ্যে কমে আসবে।

চট্টগ্রাম চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম বলেন, দেশি চালের পাশাপাশি আমদানি করা সব প্রকারের চালের দাম বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসবে। তবে পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন বলেন, মিল মালিক ও আমদানিকারকদের কারসাজির কারণে সব প্রকার চালের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কারসাজিতে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে দাম আরও বাড়বে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, নতুন বছরে মানুষ আশার আলো দেখতে চায়; নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে হতাশা হতে বা শঙ্কায় থাকতে চায় না। বছরের শুরু থেকেই প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এ নিয়ে শঙ্কায় আছেন সাধারণ মানুষ। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারসহ সংশ্নিষ্ট দপ্তরকে উদ্যোগ নিতে হবে।

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ