Foto

গ্রেনেড হামলার রায় নিয়ে চিন্তিত বিএনপি: কাদের


একুশে অগাস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারের রায় হলে বিএনপি নতুন করে রাজনৈতিক সঙ্কটে পড়বে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ২০০৪ সালের ওই হামলায় নিহত আইভি রহমানের কবরে শুক্রবার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন কাদের। তিনি বলেন, “এখন এই মামলার রায় হচ্ছে, এজন্য সবাই খুশি। বিএনপি কেবল অখুশি। সেপ্টেম্বরে রায় হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। এ কথা শুনে বিএনপি চিন্তিত। তারা জড়িত বলে তাদের এই গাত্রদাহ। কারণ রায় বের হলে তারা নতুন করে সঙ্কটে পড়বে। তারা এমনিতেই সঙ্কটে আছে।”


শুক্রবার বনানীতে আইভি রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এ কে এম এনামুল হক শামীম, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় নেতা মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের অস্থায়ী মঞ্চ লক্ষ্য করে পরপর ১৩টি গ্রেনেড ছোড়া হয়। ওই ট্রাকের ওপরই ছিলেন শেখ হাসিনা। দলীয় নেতারা মানববর্ম তৈরি করে তাকে রক্ষা করেন।

সেদিন বেঁচে গেলেও স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভি রহমান বসে ছিলেন ট্রাকে তৈরি মঞ্চের পাশে কর্মীদের সঙ্গে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ অগাস্ট মারা যান আইভি রহমান। সব মিলিয়ে ওই ঘটনায় প্রাণ হারান ২৪ জন। যারা আহত হন, তাদের অনেকে চিরতরে পঙ্গু হন, ঘটে অঙ্গহানি।

ওই হামলার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

গত মঙ্গলবার গ্রেনেড হামলার বর্ষপূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ওই ঘটনায় জিয়া পরিবার যে জড়িত তাতে তার কোনো সন্দেহ নেই।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ওই মামলার রায় প্রভাবিত হবে বলে পরে শঙ্কা প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে, হাওয়া ভবনের সরাসরি পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সেদিন খুনিরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “আমি তো বুঝতে পারলাম না কীভাবে প্রভাব পড়বে? আমিসহ ৫০০ জন তো এখনও পঙ্গু। কেউ অর্ধ পঙ্গু, কেউ পুরো পঙ্গু। এই হত্যাকাণ্ডের কি বিচার হবে না? বিএনপি তো আলামত পুড়িয়ে ফেলেছিল। এফবিআইকে তদন্ত করতে দেয়নি। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে আসতে দেয়নি।

“জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছিল। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের, এই নৃশংস গ্রেনেড হামলা, যা রক্তস্রোত বইয়ে দিয়েছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে, এর বিচার তো তারা করেনি। প্রহসনমূলক একটা তদন্ত কমিটি করেছিল। সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ছিল হাস্যকর।”

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ