Foto

গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে গণশুনানি শুরু সোমবার


গ্যাসের দাম পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামীকাল সোমবার গণশুনানি শুরু হচ্ছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে পেট্রোবাংলা, জিটিসিএল এবং বিতরণকারী কোম্পানিগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ গণশুনানি আয়োজন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।


বিইআরসি সূত্র জানায়, সব শ্রেণির গ্যাসের দাম গড়ে ৬৬ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। গৃহস্থালীতে ব্যবহূত দুই চুলার গ্যাসের বিদ্যমান দাম ৮৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করতে চায় তারা। সিএনজির দামবৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি হতে পারে।

গণশুনানির প্রথম দিন সোমবার সকালে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবনার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবে এ খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত সঞ্চালন মাসুল বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করবে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল)। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ও দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির, বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ও দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জালালাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ও দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির প্রস্তাবনার উপর শুনানি গ্রহণ করা হবে। রাজধানীর কাওরান বাজারের টিসিবি মিলনায়তনে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের উপর সর্বশেষ গত বছরের মে মাসে শুনানি গ্রহণ করেছিল বিইআরসি। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বর্ধিত মূল্যহার অনুযায়ী গ্যাসের দাম পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নির্বাচনের বছরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তখন বর্ধিত মূল্যহার ঘোষণা স্থগিত রেখেছিল বিইআরসি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত আমদানি করা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কারণে এ খাতের ব্যয় বেড়েছে। গত বছর পেট্রোবাংলা-এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি পাইপলাইনে যুক্ত হয়েছে। এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে সামিটের এলএনজিও পাইপলাইনে যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে চলতি বছর ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সমতুল্য এলএনজি গ্রিডে আসবে, যা বর্তমানে দেশে উত্পাদিত গ্যাসের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। ব্যয়বহুল এ তরলীকৃত গ্যাসের দাম সমন্বয়ের জন্যই গ্রাহক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

বিইআরসি সূত্র জানায়, নতুন প্রস্তাবে বাসা-বাড়িতে দুই বার্নার চুলার গ্যাসের দাম ৮৫০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ২০০ টাকা এবং এক বার্নারের দাম ৭৫০ থেকে বৃদ্ধি করে এক হাজার টাকার কথা বলা হয়েছে। আবেদন গৃহীত হলে আবাসিক ছাড়াও দাম বাড়বে বিদ্যুকেন্দ্র, ক্যাপটিভ পাওয়ার, সিএনজি, শিল্প ও সার কারখানায় ব্যবহূত গ্যাসের।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্যাসের দাম গড়ে ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়। সে বছরের মার্চ ও জুলাই থেকে দুই ধাপে তা কার্যকর করার কথা ছিল। আদালতের রায়ের কারণে প্রথম ধাপের দামবৃদ্ধি কার্যকর হলেও দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হয়নি।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ