Foto

গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, অবরোধে অচল মহাসড়ক


গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ-অবরোধে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে; পুলিশের সঙ্গে চলছে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। শ্রমিকদের এই বিক্ষোভের ফলে টঙ্গী থেকে সালনা পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সড়কের দুই দিকে তৈরি হয়েছে ব্যাপক যানজটপুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ডেগেরচালা এলাকায় নিট অ্যান্ড নিটেক্স লিমিটেডের শ্রমিকরা শনিবার থেকেই বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিলেন। এর মধ্যে শনিবার রাতে কারখানার পানি খেয়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরে রোববার সকাল ১০টার দিকে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এলে পরিস্থিতি বিস্ফোরন্মুখ হয়ে ওঠে।


গাছা থানার ওসি কাজী ইসমাইল হোসেন জানান, ঈদের আগে ওই কারখানায় অগাস্ট মাসের অর্ধেক বেতন দেওয়া হয়। বাকি টাকা ১২ সেপ্টম্বর দেওয়ার কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা না পারায় শনিবার শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে।

শনিবার রাত ১০টার দিকেও তারা মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কিন্তু এর মধ্যেই শনিবার রাতে কারখানার পানি খেয়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিকের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর আসে।
কারখানার শ্রমিক আমেনা বেগম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের বেতন না দিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ করখানা বন্ধের পাঁয়তারা করছিল। শ্রমিকদের যাতে বেতন না দিতে হয়, সেজন্য কৌশলে তারা ট্যাংকের পানির সঙ্গে কিছু মিশিয়ে দিয়েছে। ওই পানি খেয়ে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
এর জের ধরে নিট অ্যান্ড নিটেক্স লিমিটেডের কর্মীরা রোববার সকালে কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

এর মধ্যে পানি খেয়ে অসুস্থ কয়েকজনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

এ সময় নিটেক্স কারখানাসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ভাংচুর চালানো হয়। আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা পরে বিক্ষোভে যোগ দিলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের বড় একটি অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ কয়েক দফা শ্রমিকদের সরানোর চেষ্টা করলে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে পুলিশকে টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে দেখা যায়।
এদিকে দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে। অনেকে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে ওই এলাকা পার হওয়ার চেষ্টা করেন। ডিগ্রি পরীক্ষার্থীদেরও রাস্তায় সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের এএসপি আমিরুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পানি পানে মৃত্যুর বিষয়টি পুরোপুরি গুজব। কারও মারা যাওয়ার খবরের কোনো সত্যতা আমরা পাইনি।”

গাছা থানার ওসি কাজী ইসমাইল হোসেন বলেন, “শ্রমিকরা এখনও রাস্তার বিভিন্ন অংশ আটকে বিক্ষোভ করছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।“

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ