Foto

গণতন্ত্রের জন্য এই ঐক্য নির্ভেজাল ।


যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে জোট বেঁধে জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়ে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন বলেছেন, তাদের এই প্রচেষ্টা ‘নির্ভেজাল’ গণতন্ত্রের জন্য। বুধবার মাহমুদুর রহমান মান্না নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি। বিকল্পধারা সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে সম্প্রতি মতৈক্য হয় কামাল হোসেনের। মান্না ওই জোটের সদস্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন। এই ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে স্বাগত জানালেও গণতন্ত্র নস্যাৎকারী শক্তির সঙ্গে তাদের সংস্রবের সম্ভাবনার কথাও সম্প্রতি বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


কামাল হোসেন বলেন, “আমাদের ঐক্য হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, নির্ভেজাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে এই অন্যায় থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে।

“আজকে আমি আহ্বান জানাব, যারা অসাম্প্রদায়িক ও গণতন্ত্র বিশ্বাস করেন, আসুন মানুষের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।”

সভায় যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বি চৌধুরী বলেন, “আজকে দেশে শুধু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সেই বাহিনী যাদের কাছে হাতুড়ি আছে, চাপাতি আছে, লাঠি আছে, তারা ইচ্ছামতো ঘুরতে পারবে। এটা সরকারি দলের গণতন্ত্র।

“বিরোধী দলের জন্য গণতন্ত্র নাই। আমরা বিরোধী দলের গণতন্ত্র চাই। এই সরকারকে আমরা বলব, অবিলম্বে বিরোধী দলের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সেইভাবে কাজ করতে হবে।”

এই আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার নেত্রী খালেদা জিয়ার ঘোষিত জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

কামাল হোসেনের সঙ্গে আলোচনার সূত্র ধরে ফখরুল বলেন, “তার সঙ্গে কথা বলার সময়ে আমি বলেছিলাম, আপনারা এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সামনে ছিলেন। এই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম আপনারা দিয়েছেন, সেই দেশটি আজ ডুবে যাচ্ছে, একে তোলার চেষ্টা করুন। সবাই মিলে আসুন আমরা এক সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই বাংলাদেশকে তুলে ধরি।”

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে বিএনপির আগ্রহের কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সত্যিকার অর্থে একটা নতুন বাংলাদেশ, স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা তৈরি করতে চাই।”

কামাল হোসেন বলেন, “এক ব্যক্তির শাসন কিংবা রাজতন্ত্রের প্রশ্নই উঠে না। আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিশ্বাস করি, বহুদলীয় গণতন্ত্রে জনগণ সকল ক্ষমতা ও দেশের মালিক। জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে আনতে আসুন আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হই।”

বি চৌধুরী বলেন, “গণতন্ত্রের মূল শর্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন। তার জন্য নির্বাচনের সময়ে এমন সরকার হবে যে সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারবে। আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই।”

যুক্তফ্রন্টকে ঢাকায় জনসভার করার অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান বি চৌধুরী।

জেএসডির সভাপতি আ স ম রব বলেন, “সরকারকে বলতে চাই, এখনো সময় আছে , নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। দমনপীড়ন করে আর একতরফা ও একদলীয় নির্বাচন এদেশে হতে দেওয়া হবে না।”

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে মান্না বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী আফসোস করেন আওয়ামী লীগের পক্ষে কিছু লিখতে বললে মাহমুদুর রহমান মান্নার সে কী কান্না?

“আমি কাঁদি, প্রধানমন্ত্রীকে দেখে কাঁদি, বেশি কাঁদি আওয়ামী লীগকে দেখে। এই আওয়ামী লীগকে আমি যা দেখেছি ওই আওয়ামী লীগ নাই। আমি লিখতে পারি, তারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছিল, ৬ দফা দিয়েছিল, বঙ্গবন্ধু লড়াই করেছিলেন, জেল খেটেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল।

“এখন যদি লিখি তাহলে এই দল ২০১৪ সালে সারাদেশের লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মানুষের ভোট খেয়ে ফেলেছে। ওরা ভোট চুরি করেছে, টাকা চুরি তো করেছে। এই সরকারকে এখন দেশের মানুষ আর চায় না।”

ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে যুক্তফ্রন্ট নেতা মান্না বলেন, “আমরা রাজপথে নামব, অপেক্ষা করুন। সবাই মিলে রাস্তায় নামবে হবে। একবার যদি রাজপথে নামতে পারেন একত্রে, তাহলে অত বড় শক্তিধর প্রাণীও ধীরে ধীরে তার ফনা নামাবে।

“আমাদের সামনে বিজয় ছাড়া কোনো বিকল্প নাই। হারাবার কোনো উপায় নেই। আমরা পরাজয় স্বীকার করতে পারি না স্বৈরাচারের কাছে।”

জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে ইভিএম বর্জন, জাতীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক জোট শীর্ষক এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মান্না। আলোচনায় অংশ নেন কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল প্রমুখ।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ