Foto

খেলাপি ঋণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা


খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আসছে মুদ্রানীতিতেও এই বিষয়ে নির্দেশনা থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।


বিশ্লেষকরা বলছেন, ঋণ খেলাপের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে আর্থিক খাতের দুর্বলতা থেকেই যাবে।

গেলো দশ বছরে লাগামহীন ঘোড়ার মতো ছুটেছে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ। ২০০৯ থেকে ১৮ পর্যন্ত সময়ে ২২ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ ছুঁয়েছে লাখ কোটি টাকার ঘরে। হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপের মত একের পর এক ঋণ কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁসে আর্থিক খাতে দাগ লেগেছে। রাঘব বোয়ালদের দৌরাত্ম যেমন কলঙ্ক লেগেছে ব্যাংক ব্যবস্থায় তেমনি বিব্রত করেছে সরকারকে।

তবে, এবার নড়েচড়ে বসেছে সরকার। নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠনের পর প্রথম দিনই খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রীর। একই সুর কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও। এরইমধ্যে খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আসছে মুদ্রানীতিতেও থাকবে নির্দেশনা।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেকটি ব্যাংকের কড়া নির্দেশনা থাকবে। তারা তাদের পলিসি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে ক্রেডিট পলিসি আছে, রিকভারির ক্ষেত্রে তারা যেসব উদ্যোগ নেবে এসব কিছু মিলে তাদের ক্লাসিফিকেশন যাতে নিচে নামিয়ে আনা যায় এই ব্যবস্থা করা হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনাদায়ী ঋণের হার ১১ শতাংশ। সর্বোচ্চ অনাদায়ী বেসিক ব্যাংকের। ব্যাংকটির ৬০ শতাংশই খেলাপের খাতায়। তবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, ডিসেম্বরের হিসেব হাতে পেলে এ হার কিছুটা কমতে পারে।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, তারা চেষ্টা করছে, রিশিডিউলিং করছে, রিঅ্যাডজাস্টমেন্ট করছে, সুদ মওকুফ করছে। গত সেপ্টেম্বর কোয়ার্টারে বাড়ার একটা কারণ ছিল, ঐ পিরিয়ডটায় লোন ডিজবার্জমেন্ট কম ছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছাই পারে সকল প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করতে।

প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করে কঠোর ভাবে আইন প্রয়োগেরও পরামর্শ বিশ্লেষকদের।

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ