Foto

খাশুগজি হত্যার আদেশ সৌদির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে: এরদোয়ান


সাংবাদিক জামাল খাশুগজির হত্যার আদেশ সৌদি সরকারের ‘সর্বোচ্চ পর্যায়’ থেকে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান। শুক্রবার ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে এরদোয়ান একথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা ‘গোপনে কলকাঠি নেড়েছেন’ তাদের মুখোশ উন্মোচন করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


ওয়াশিংটন পোস্টের কলামনিস্ট খাশুগজি সৌদি সরকার ও দেশটির প্রকৃত শাসক ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচক ছিলেন। এক মাস আগে ২ অক্টোবর সৌদি আরবের ইস্তাম্বুল কনসুলেটে প্রবেশের পর থেকেই খাশুগজির আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ওই সংবাদপত্রের উপসম্পাদকীয়তে এরদোয়ান বলেছেন, বাদশা সালমান খাশুগজিকে আঘাত করার আদেশ দিয়েছেন এক সেকেন্ডের জন্যও এমন বিশ্বাস তার হয়নি, পাশাপাশি সৌদির ক্রাউন প্রিন্সকে সরাসরি দায়ী করা থেকেও নিবৃত থেকেছেন তিনি।

উপসম্পাদকীয়তে এরদোয়ান সতর্ক করে বলেন, “কারোই নেটোর মিত্র একটি দেশের মাটিতে ফের এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস দেখানো উচিত হবে না। কেউ যদি এ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তবে তাদের গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”

নির্জলা মিথ্যা বলার জন্য ইস্তাম্বুলের সৌদি দূতকে এবং সহযোগিতা করতে অস্বীকার করার জন্য, প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়ার জন্য ও সাধারণ প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার জন্য সৌদি আরবের শীর্ষ কৌঁসুলিকে অভিযুক্ত করেন এরদোয়ান।

খাশুগজি হত্যাকাণ্ড শুধু এক দল নিরাপত্তা কর্মকর্তার পদক্ষেপ না, এর সঙ্গে আরও অনেক ‍কিছু জড়িত আছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

বলেছেন, “বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল একজন সদস্য হিসেবে খাশুগজি হত্যার পেছনে গোপনে যারা কলকাঠি নেড়েছে তাদের পরিচয় আমাদের অবশ্যই উন্মোচিত করা দরকার এবং সৌদি কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা এই খুনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে তাদের বের করা দরকার।”

শুক্রবার হুরিয়াত সংবাদপত্রের এক প্রতিবেদনে এরদোয়ানের আরেক উপদেষ্টা বলেছেন, ইস্তাম্বুলে খাশুগজিকে যে দলটি হত্যা করেছে তারা খুনের আলামত লুকাতে তার দেহকে টুকরা টুকরা করে এসিড দিয়ে গলিয়ে ফেলেছে।

এরদোয়ানের উপদেষ্টা ও খাশুগজির বন্ধু ইয়াসিন আকতে বলেছেন, “তারা শুধু খাশুগজির লাশ কেটে টুকরো টুকরোই করেনি বরং লাশটি সহজে বিলীন করে দেওয়ার জন্য তা এসিড দিয়েও গলিয়ে বিলীন করে দিয়েছে।”

গত সপ্তাহে এরদোয়ানের এক উপদেষ্টা বলেছিলেন, খাশুগজির হত্যাকাণ্ডে এমবিএসের (মোহাম্মদ বিন সালমান) হাত রক্তে রঞ্জিত; এটিই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে জড়িত করে এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ কারও করা সবচেয়ে স্পষ্টবাদী মন্তব্য।

সৌদি সরকার প্রথমে খাশুগজি কনসুলেট ছেড়ে চলে গেছে বলে দাবি করেছিল। পরে বলেছিল, অপরিকল্পিত অনৈতিক অভিযানে খাশুগজি মারা গেছেন। গত সপ্তাহে সৌদির সরকারি কৌঁসুলি সৌদ আল মোজেব বলেছেন, খাশুগজির ওপর হামলা পূর্বপরিকল্পিত।

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ