Foto

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনে নামতে হবে


দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে যাবে বিএনপি। দলটির সিনিয়র নেতারা বলেছেন, জনগণের মুক্তির জন্য তাদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে যেতে হবে। এর জন্য দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ মিলনায়তনে সোমবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নেতারা এ আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপির উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জোর করে ক্ষমতায় আছে। তাকে সরানো ছাড়া দেশের মানুষের মুক্তি মিলবে না। এর জন্য বিএনপিকেই প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। জনগণের সম্পৃক্ততায় আন্দোলনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এটাই স্বাধীনতা দিবসের তাদের অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা মানে একটা ভূখণ্ডের স্বাধীনতা, শুধু একটি পতাকা নয়। স্বাধীনতার অর্থ হচ্ছে, এই দেশে যারা বাস করেন তাদের স্বাধীনতা। তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, তাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং তাদের মুক্তির স্বাধীনতা। যা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে এই আওয়ামী লীগ। তারা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা ও আদর্শকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। আজকে সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে বিপন্ন হয়েছে, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়েছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। আজকে দেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়ার মতো এতো ত্যাগ এ দেশের কোনো নেতা করেননি। তিনিই এখন পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে। এই সরকার তার চিকিৎসা পর্যন্ত করছে না। তাই আজকে তাদের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে, তারা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়েই নেত্রীকে মুক্ত করবেন। তাকে মুক্ত করলেই গণতন্ত্রকে মুক্ত করা হবে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই সরকার খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রেখেছে। সব অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। এই সরকার খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ভয় পায়। সেজন্য তারা এই দলের বিরুদ্ধে, এই দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এতে কোনো কাজ হবে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার তাদের প্রয়োজনে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করেছে। এর মধ্যে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে তারা তাদের মতো করে ইতিহাস দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।হব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করতে হাজার হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে। আর নিজেদের নামে মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ