Foto

খালেদার মনোনয়নের চিঠি দিয়ে কাঁদলেন ফখরুল


বিএনপির ঘোর দুঃসময়ে যে নির্বাচন এল, তাতে কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নের প্রত্যয়নপত্রে সই করতে হল মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে; সেই চিঠি তিনি দলীয় প্রধানের প্রতিনিধির হাতে তুলে দিলেন অশ্রুভেজা চোখে। তিন আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নের চিঠি হস্তান্তরের মধ্যে দিয়ে সোমবার বিকালে ধানের শীষের প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া শুরু করেছে বিএনপি।


দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজায় কারাগারে থাকা খালেদা জিয়া এবার মনোনয়ন নিয়েছেন ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন থেকে।

বগুড়া দুটি আসনে তার পক্ষে জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু মহাসচিবের কাছে থেকে প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেন।

নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় দলীয় মনোনয়নের এই প্রত্যয়নপত্রও জমা দিতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে থাকায় এই প্রত্যায়নপত্র দেওয়া হচ্ছে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরে।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রত্যয়নপত্র হস্তান্তরের আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, “আজকে যখন আমি আপনাদের সামনে এসেছি, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে… এই প্রথম আমরা একটা নির্বাচন অংশ নিতে চলেছি আমাদের চেয়ারপারসনকে ছাড়া। “
কান্না চাপতে না পেরে এক পর্যায়ে তিনি টিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেন এবং পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ মোছেন।

পরে বলেন, “তিনি (খালেদা জিয়া) কারাগারে। সরকারের প্রচণ্ড প্রতিহিংসামূলক মামলা ও কলা কৌশলে তাকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। আমরা দেশনেত্রীর মনোনয়নপত্র তার প্রতিনিধিদের কাছে তুলে দিয়ে এই কার্য্ক্রমের সূচনা করছি।”

মির্জা ফখরুল বলেন, কেবল খালেদা জিয়া নয়, বিএনপি ও বিরোধী দলের ’অসংখ্য’ নেতা-কর্মীকে কারাগারে রাখা হয়েছে, তারা ’নির্যাতনের শিকার’ হচ্ছেন। দেশে এখন সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নেই।

“প্রশ্ন আসবে- তারপরও আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি কেন? নির্বাচনে যাচ্ছি দুটি কারণে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটি আন্দোলন সৃষ্টি করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাই, জনগণের ভোটাধিকার ফেরত আনতে চাই।
“এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়ে এর মধ্য দিয়ে এই সরকারকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই – এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
সেই লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, “একটি দাবিতে সবাই একমত, দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারকে দূর করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।”

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পাশাপাশি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিএনপি কতটি আসনে নিজেদের প্রার্থী দিচ্ছে আর কতটি আসন জোট শরিকদের জন্য ছাড়ছে- সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনও আসেনি।

এ সংবাদ সম্মেলনের পর বিকাল ৪টা থেকে বরিশাল বিভাগে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেওয়া শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় রংপুর বিভাগের এবং রাত ৮টায় রাজশাহী বিভাগের প্রার্থীদের প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা প্রত্যেকটি আসনে দুইজন করে প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিচ্ছি। কোনো কারণে একজনের না হলে পরেরজন যাতে সুযোগ পান। আর আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ যেখানে যারা আছেন, সেখানে তারাই মনোনয়ন পেয়েছেন।”
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী প্রাথমিক মনোনয়নের ক্ষেত্রে এক আসনে একাধিক প্রার্থীকে প্রত্যায়ন দেওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রতীক বরাদ্দের আগে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। সেখানে যাদের নাম থাকবে, কেবল তারাই শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন, বাকিদের মনোনয়নপত্র বাদ যাবে।

৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ রেখে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী,মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর। আর প্রত্যাহার করা যাবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ