Foto

খালেদার জামিন প্রশ্নে আদেশ ১৪ অক্টোবর


জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বহাল থাকবে কি-না সে বিষয়ে আদেশের দিন এক সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে। বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে রোববার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামান এ বিষয়ে আদেশের জন্য ১৪ অক্টোবর নতুন তারিখ রেখেছেন।


জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি থাকলেও জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিনে রয়েছেন।

‘অসুস্থতার কারণে’ তাকে গত সাত মাসে একবারও আদালতে হাজির করতে না পারায় কারাগারের ভেতরে বিশেষ এজলাস বসিয়ে তার বিচারের ব্যবস্থা করা হয়।

কিন্তু তারপরও খালেদাকে আদালতে আনতে না পেরে গত ২০ সেপ্টেম্বর তার অনুপস্থিতিতেই বিচার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেন বিচারক মো. আখতারুজ্জামান।

খালেদা জিয়া উপস্থিত না থাকলেও তার আইনজীবীরা প্রতিটি ধার্য তারিখে জামিন বাড়ানোর আবেদন করে আসছেন এবং বিচারকও তা এতদিন মঞ্জুর করে আসছিলেন।

এ নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর আপত্তিতে গত সপ্তাহে আদালত ‘খালেদা জিয়ার জামিন কেন বাতিল করা হবে না’- সেই ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে তার আইনজীবীদের নোটিস দেয়। এ বিষয়ে শুনানি ও আদেশের জন্য ৭ অক্টোবর দিন রাখা হয়।

এর মধ্যে শনিবার খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার রোববার আদালতের নোটিসের বিষয়ে তাদের জবাব দেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন মামলার বাদী দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।


শুনানি শেষে বিচারক বিষয়টি ১৪ অক্টোবর আদেশের জন্য রাখেন।
এই বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে হাই কোর্টে যেতে দুই আসামির আইনজীবীরা যে সময়ের আবেদন করেছিলেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্কে অংশ না নেওয়ায় বিচারের ওই অংশটি বাদ রেখেই রায়ের তারিখ নির্ধারণের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ যে আবেদন করেছিল- সেসব আবেদনের আদেশও ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে দেন বিচারক।

এছাড়া খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চালানোর বিষয় বিচারক আখতারুজ্জামানের দেওয়া আদেশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে বিএনপি নেত্রীর আবেদনের বিষয়ে আদেশ আনার জন্য তার আইনজীবীদের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

কারাগারে খালেদার অবস্থানকে কেন্দ্র করে অন্যান্য দিন নাজিম উদ্দিন রোডে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও রোববার তা অনেকটা শিথিল দেখা যায়।

পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সামনে দিয়ে শুনানির অন্য দিন যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হলেও এদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা করেনি।

জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ মামলায় দুদকের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলেও খালেদা জিয়াসহ তিন আসামির যুক্তিতর্ক শুনানি বাকি রয়েছে।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ