Foto

কয়লা আমদানি শুরু, সমন্বয় হবে না দেড়শ কোটি টাকা


পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সিলেটের চারটি স্থলবন্দর দিয়ে মেঘালয়ের কয়লা রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। ৩১ মে পর্যন্ত কয়লা আমদানির যে অনুমতিতে আমদানি কারকদের ভারতের ব্যাংকে আটকে থাকা এলসি’র দেড়শ কোটি টাকার সমন্বয় হবেনা। উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ী মহল।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু উত্তোলিত অবশিষ্ট কয়লা রপ্তানি করা যাবে ৩১ মে পর্যন্ত। এ মর্মে কোর্টের ১৭ মে’র আদেশটি পেয়ে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা মঙ্গলবার রপ্তানির উদ্যোগ নেন তাহিরপুরের বড়ছড়া, চারাগাঁও এবং বাগলী এই ৩টি স্থল বন্দর দিয়ে। সেখানে কিছু কয়লা আমদানি শুরুও হয়েছে। কিন্তু কয়লা আমদানির বড় স্থলবন্দর তামবিল দিয়ে বুধবার পর্যন্ত কয়লা আমদানি শুরু হয়নি। ওই পয়েন্টের রপ্তানি কারকরা অল্প সময়ের অনুমতিতে প্রস্তুতি নিতে পারেননি বলে সূত্র জানায়।

সিলেট কয়লা আমদানিকারক সমিতির সভাপতি চন্দন সাহা বলেন, মাত্র ১১ দিনে কয়লা আমদানি কতটুকু হবে! এতে ভারতে আটকে থাকা এলসির দেড়শত কোটি টাকার সমন্বয় হবে না। আর সমন্বয় করতে হলে আমদানির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশে কয়লার চাহিদা বছরে অন্তত: ৪৫ লক্ষ টন। আর এর বেশির ভাগ (প্রায় ৩০ লক্ষ টন) কয়লা আমদানি করে থাকে সিলেটের তামবিলসহ চার শুল্ক স্টেশন।
উল্লেখ্য, ভারতের মেঘালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন ডিমাহাসাও জেলা ছাত্র ইউনিয়নের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) মেঘালয় সরকারের অবৈধ কয়লা খনন ও পরিবহন বন্ধের নির্দেশ দেন। ওই বছরের ১৩ মে থেকে মেঘালয়ের সীমান্ত জেলা গুলোয় ১৪৪ ধারা জারি করে কয়লা পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তোলিত কয়লা রপ্তানির সুযোগ দেয়। কিন্তু বাংলাদেশী কয়লা আমদানিকারকদের কোনো নোটিশ বা চিঠি ছাড়াই ১৫ জানুয়ারি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েন এলসির টাকা নিয়ে। অন্যদিকে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা আবারও আইনি লড়াই শুরু করেন। সর্বশেষ গত ১০ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ৩১ মে পর্যন্ত উত্তোলিত অবশিষ্ট কয়লা রপ্তানির সুযোগ দেয়।

Facebook Comments

" সিলেট সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ