Foto

ক্রমেই বড় হচ্ছে একুশে বইমেলা


ক্রমে বিকশিত হচ্ছে প্রকাশনা শিল্প। সেইসঙ্গে প্রকাশকের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিবছর। এমন প্রেক্ষাপটে ২০১৪ সালে গতানুগতিক বৃত্ত ভেঙে সম্প্রসারিত করা হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে। বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণ পেরিয়ে সেবার মেলা বিস্তৃত হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এর পর থেকে প্রতিবছরই বাড়ছে মেলার পরিসর। বাড়ছে মেলাকে কেন্দ্র করে নতুন বই প্রকাশের সংখ্যা ও বই-বাণিজ্য।


গত বছর এর আগের পাঁচ বছরের তুলনায় গ্রন্থমেলায় বই বিক্রি বেড়েছে প্রায় সাড়ে চারগুণ। এবারের গ্রন্থমেলা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে চলেছে বলেই মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন কর্মমুখর গ্রন্থমেলার প্রস্তুতিতে। আগামীকাল বুধবার লটারির মাধ্যমে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থা ও সংগঠনগুলোর মধ্যে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার থেকে সংস্থাগুলো স্টলসজ্জার কাজ শুরু করবে।

এবারের মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে ৫৫০টি প্রকাশনা সংস্থা ও সংগঠনকে নির্বাচিত করেছে এর আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। এগুলোর মধ্যে প্রকাশনা সংস্থার সংখ্যা প্রায় ৫০০। গতবারের তুলনায় এবারের মেলায় অংশ নিতে যাচ্ছে ৪৫টি বেশি প্রকাশনা সংস্থা।

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্যানুযায়ী, ২০০২ সালে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থার সংখ্যা ছিল ২৪০টি, ২০০৩ সালে ২৬৭টি, ২০০৪ সালে ৩১২টি, ২০০৫ সালে ৩১৮টি, ২০০৬ সালে ৩১৭টি, ২০০৭ সালে ২৫৫টি, ২০০৮ সালে ২৩৬টি, ২০০৯ সালে ৩২৬টি, ২০১০ সালে ৩৫৬টি, ২০১১ সালে ৩৭৬টি, ২০১২ সালে ৪২৫টি, ২০১৩ সালে ২৭৪টি, ২০১৪ সালে ২৯৯টি, ২০১৫ সালে ৩৫১টি, ২০১৬ সালে ৪০২টি, ২০১৭ সালে ৪০৯টি ও ২০১৮ সালে ৪৫৫টি।

প্রকাশনা সংস্থা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিবছরই বাড়ছে মেলায় নতুন বইয়ের প্রকাশনাও। ২০১৪ সালে মেলায় প্রকাশিত নতুন বইয়ের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৯৫৯টি, ২০১৫ সালে তিন হাজার ৭০০টি, ২০১৬ সালে তিন হাজার ৪৪৪টি, ২০১৭ সালে তিন হাজার ৬৪৬টি ও ২০১৮ সালে চার হাজার ৫৯১টি। এ হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে মেলায় নতুন বইয়ের সংখ্যা বেড়েছে দেড় গুণেরও বেশি। তবে এ হিসাব শুধু মেলার তথ্যকেন্দ্রে জমা পড়া বইভিত্তিক। প্রকাশিত বইয়ের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা যায়।

বই বিক্রির হারও বেড়েছে এ সময়ে। বাংলা একাডেমির হিসাবমতে, ২০১৪ সালে ১৬ কোটি টাকার, ২০১৫ সালে ২১ কোটি ৯৫ লাখ, ২০১৬ সালে ৪২ কোটি, ২০১৭ সালে ৬৫ কোটি ও ২০১৮ সালের মেলায় ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এ বছর তা শতকোটির ঘর স্পর্শ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংখ্যার এই হিসাব গ্রন্থমেলার জন্য কতটা ইতিবাচক? জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী সমকালকে বলেন, বই বের হওয়া আনন্দের বিষয়। এর ফলে শিশু থেকে বৃদ্ধ- সবাই বই পড়ার সুযোগ পান। আবার বেশি বই প্রকাশ পেলে পাঠক বিভ্রান্তও হন। তিনি বলেন, মানসম্পন্ন বই নিয়ে এবারের গ্রন্থমেলায় ’লেখক বলছেন’ শিরোনামের আয়োজনে প্রতিদিন দুই থেকে পাঁচটি বই সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

এ প্রসঙ্গে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, বই প্রকাশ বেড়েছে। এতে ভালো বইয়ের সংখ্যাও বাড়ছে। তাই বিক্রিও বাড়ছে। সুতরাং এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এবারের মেলা ভালো হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী তিনি।

Facebook Comments

" লেখাপড়া " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ