Foto

ক্যাপ্টেন কাদের কে ভুলতে পারব না


মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমি ঢাকা থেকে চলে যাই চট্টগ্রামে। নিরাপত্তার জন্য উঠি চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টের একটি বাসায়।


কিন্তু গোলাগুলি শুরু হয়ে গেলে সেখানেও বেশি দিন থাকতে পারিনি। সেখান থেকে চলে যাই আমার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাওলায়। যখন সেখানকার মানুষও বলা শুরু করলেন, যেকোনো সময় হাওলায় আক্রমণ হতে পারে, আমরা ঘাবড়ে যাই। পরিবারসহ আমাদের গন্তব্য তখন আগরতলা। সীমান্ত পেরোনের জন্য গ্রামের ভেতর দিয়ে আমরা রওনা দিই। কখনো হেঁটে, কখনো রিকশায়। ১৯ এপ্রিল রওনা দিয়ে তিন রাত পর আমরা পৌঁছাই নারায়ণহাটে। সেটা পাহাড়ি এলাকা। সেখানে পৌঁছেই আমার পরিচয় হয় ক্যাপ্টেন কাদেরের সঙ্গে। আমি কোনো দিন তাঁর কথা ভুলতে পারব না। আমাকে দেখেই তিনি চিনে ফেলেন। বলেন, ‘আপনি কবরী না?’ তিন দিনের ক্লান্তিকর আর ভীতিকর পরিস্থিতিতেও কেউ একজন চিনতে পারছে, সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছিল দেখে খুব ভালো লাগছিল। ক্যাপ্টেন কাদের আমার পরিবারকে শান্ত করেন। বলেন তিনি আমাদের সাবরুম বর্ডার পর্যন্ত নিয়ে যাবেন, যেই বর্ডার দিয়ে পেরোলেই আমরা আগরতলা পৌঁছাতে পারব। তাঁরা সাবরুম বর্ডার থেকে গাড়ির জন্য তেল নেবেন। আমাদের সেই গাড়িতে লুকিয়ে তাঁরা নিয়ে যাবেন। যেই কথা, সেই কাজ। সন্ধ্যায় অন্ধকারে আমরা গাড়িতে চেপে বসি। ক্যাপ্টেন কাদের আমাদের সাবরুম বর্ডারের সেনাদের কাছে তুলে দেন। সেই সেনারা আমাদের রাতে থাকার ব্যবস্থা করেন, খেতে দেন। ভোরে আমাদের ঘুম ভাঙিয়ে সীমান্ত পারও করে দেন। কিন্তু সে সময়ই জানতে পারি এক হৃদয়বিদারক কথা। জানতে পারি, আমাদের সীমান্তে নামিয়ে দিয়ে নারায়ণহাটে ফেরার পথে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ক্যাপ্টেন কাদেরকে মেরে ফেলেছে। যিনি আমাদের বাঁচানোর জন্য এতকিছু করেছেন, সেই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর ওই মুহূর্তে আমাদের ভেঙে দিয়েছিল। আমি জানতে পেরেছিলাম, ক্যাপ্টেন কাদেরের মা অনেক দিন জানতেন না যে তাঁর ছেলের এভাবে মৃত্যু হয়েছে।

Facebook Comments

" বিনোদন " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ