Foto

কোহলি উদযাপন


অস্ট্রেলিয়ার কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারই আগুনের ফুলকিটার জন্ম দিয়েছিলেন। সেটা ধীরে ধীরে দাবানলে রূপ নিতে যাচ্ছে। ‘আগুনে’ এক সিরিজের বিজ্ঞাপন এখনো ব্যাটে বলে অনূদিত না হলেও মুখে সবার খই ফুটতে শুরু করেছে। ল্যাঙ্গার বলেছিলেন কোহলির মতো আচরণ অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা করলে তাদের ‘দুনিয়ার সবচেয়ে খারাপ’ বলা হতো।


ম্যাচ চলছে বলে কোহলি এখনো এ নিয়ে কিছু শোনাননি। তাঁর পূর্বসূরিই তাঁর হয়ে ব্যাট করেছেন। ভিভিএস লক্ষণ উপদেশ দিয়েছেন কোহলি নয়, নিজের দল নিয়েই ভাবা উচিত ল্যাঙ্গারের।

অ্যাডিলেডে কাল টেস্টের দ্বিতীয় দিনে অ্যারন ফিঞ্চ আউট হওয়ার পর উন্মাতাল উদ্‌যাপন করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। কাল ইশান্ত শর্মার বল ফিঞ্চের দুটি স্টাম্প উপড়ে ফেলে। এতে ইশান্ত যতটা খুশি হয়েছেন, কোহলি যেন সেটিকেও ছাপিয়ে যান! দুটো হাত মুষ্টিবদ্ধ ভঙ্গিতে লাফিয়ে উইকেট পতন উদ্‌যাপন করেন। এ সময় তাঁর মুখভঙ্গি ছিল দেখার মতো। শক্ত চোয়াল আর তীক্ষ্ণ চাহনি। কোহলির এই উদ্‌যাপন বেশ আলোচনার জন্ম দেয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

গতকাল ফক্স স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপচারিতায় কোহলির এ উদ্‌যাপনের সমালোচনা করেছেন ল্যাঙ্গার, ‘খেলাটির প্রতি (কোহলির) এই ভালোবাসা দেখতে ভালো লাগে, তাই না? তবে এটাও মনে রাখতে হবে, একই উদ্‌যাপন আমরা করলে দুনিয়ার সবচেয়ে খারাপ ছেলে হিসেবে মনে করা হতো। এটাই পার্থক্য, এটাই সত্য। এমন ভালোবাসা দেখতে ভালো লাগে তবে পার্থক্যটাও মনে রাখতে হবে।’

আজ লক্ষণ তারই জবাব দিয়েছে ইএসপিএন ক্রিকইনফোর সঙ্গে আলাপচারিতায়। সাবেক এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান কোচ ও অস্ট্রেলিয়া দল—ওরা ভুল কিছু ভাবছে। দেশের হয়ে যখন খেলবেন, তখন গর্ব ও আবেগ নিয়েই খেলা উচিত। দর্শকদের সন্তুষ্ট করতে বা চমৎকৃত করতে খেলতে যাচ্ছেন না বা ভালো ছেলে সাজতে যাচ্ছেন না। আপনাকে কঠোর হয়েই খেলতে হবে। বিরাট ওভাবে উদ্‌যাপন করেছে—ঠিক আছে, কিন্তু ল্যাঙ্গারের উচিত আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলা নিয়ে কথা বলা। এটা শুধু উদ্‌যাপন নয়, এ দিয়ে তার আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করেছে। এতে ইতিবাচকতাও বোঝা যাচ্ছে, ঠিক যেভাবে ওরা ব্যাট করে, ফিল্ডিং করে, যেভাবে উইকেট নেয়।’

আর কোহলির উদ্‌যাপনের কথা টেনে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের আগের আচরণকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা হাস্যকর মনে হয়েছে লক্ষণের কাছে। কোহলির উদ্‌যাপনের সঙ্গে বল টেম্পারিংয়ের মতো ভয়ংকর অপরাধকে মিলিয়ে ফেলায় আপত্তি আছে তাঁর, ‘কোহলি কোনো ভুল করেনি, কেপ টাউনের বল বিকৃতির সঙ্গে কোহলির উদ্‌যাপন মিলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। কেপ টাউনে যা হয়েছে তা ঠিক হয়নি, তারা সীমা অতিক্রম করেছিল। সেটা ছিল বল টেম্পারিং। বিরাট তো স্লেজ করেনি, কিংবা কাউকে হয়রানি করার মতো ভাষাও ব্যবহার করেনি—ও এভাবেই উদ্‌যাপন করে। আমি যদি জাস্টিন ল্যাঙ্গার হতাম, তবে দলকে (অস্ট্রেলিয়া) বলতাম ওই উদ্‌যাপনের কথা ভুলে যাও কিংবা প্রতিপক্ষ কী করছে সেটাও। বরং তোমরা যতটুকু পার সেরা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার হওয়ার চেষ্টা কর। মাঠে যাও এবং এ বিশ্বাস নিয়ে যে তোমরাও দ্রুত রান তুলতে পার। তোমারা যে কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রান করতে পার, সেটা তোমাদের শরীরী ভাষায় বোঝাও, তোমাদের ইতিবাচক আকাঙ্ক্ষায় সেটা প্রকাশ কর। এবং মাঠের বাইরে কী হচ্ছে সেটা ভুলে যাও।’

গতকাল ল্যাঙ্গার শচীনের সঙ্গেও একটি ব্যাপারে দ্বিমত করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের অতিরক্ষণাত্মক ব্যাটিং দেখে টেন্ডুলকার ভারতকে এর সুযোগ নিতে বলেছিলেন। ল্যাঙ্গার মানতে রাজি হননি যে অস্ট্রেলিয়া রক্ষণাত্মক খেলছে। কিন্তু অ্যাডিলেডের উইকেটে ৮৮ ওভারে ৭ উইকেটে মাত্র ১৯১ রান তোলা কিন্তু টেন্ডুলকারের পক্ষেই কথা বলে। লক্ষণও তাই এ নিয়ে খোঁচা দিতে ভোলেননি, ‘তাঁর উচিত ব্যাটসম্যানদের আরও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ব্যাট করতে বলা। যে মানসিকতা আগে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দেখতাম। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দেখা শুরু করার পর থেকে কখনো দেখিনি, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা ওভারে ২ করে রান তুলছে।’

Facebook Comments

" ক্রিকেট নিউজ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ