Foto

কোহলির সেঞ্চুরির পর রাসেল-ঝড়, পয়সা উসুল ম্যাচ!


ষাট হাজারের ওপরে দর্শক সমাগম হয়েছিল ইডেন গার্ডেনে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের ঘরের মাঠে ম্যাচ, তাই দলটির সমর্থকসংখ্যাই বেশি। প্রথম ইনিংসের পরই তাদের অনেকের চুপসে যাওয়ার কথা ছিল। বিরাট কোহলির দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে (১০০) রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) যে দুই শোর্ধ্ব সংগ্রহ পেয়ে যায়। কিন্তু বেঙ্গালুরুর ইনিংসে উন্মাতাল গ্যালারি দেখে মনে হয়েছে, কোহলির নান্দনিক ব্যাটিংয়ে দুশ্চিন্তার চেয়ে কলকাতার সমর্থকেরা ইনিংসটা উপভোগই করেছেন বেশি। ম্যাচে উত্তেজনার কথা ভাবলে অবশ্য ক্রিকেটপ্রেমীদের পয়সা উসুল। কলকাতা যে রান তাড়া করতে নেমে ইনিংসের পঞ্চম ওভারের মধ্যেই হারের বন্দোবস্ত করে আবার লড়াইয়ে ফিরে শেষ পর্যন্ত হেরেছে।


জয়ের জন্য ২১৪ রান করতে হতো স্বাগতিকদের। এ জন্য ভালো শুরুর বিকল্প ছিল না। কিন্তু পঞ্চম ওভার শেষে কলকাতার স্কোর ৩ উইকেটে ৩৩। ওভারপ্রতি তখন গড়ে রান দরকার ১২-এর ওপরে। ১৫তম ওভার শেষে তা ১৮.৬০। শেষ দিকে আন্দ্রে রাসেল ও নীতিশ রানা অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা করে ম্যাচ জমিয়ে তুললেও ৫ উইকেটে ২০৩ রানেই থেমেছে কলকাতার ইনিংস। ১০ রানের এই জয়ে আরসিবি–সমর্থকদের মনে হতেই পারে তাঁদের দল জেগে উঠেছে। কিন্তু বড্ড দেরি হয়ে গেছে। দুই জয়ে ৯ ম্যাচে মোট ৪ পয়েন্ট নিয়ে আরসিবি ধুঁকছে টেবিলের তলানিতে। ৯ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয়ে কলকাতা।

ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছিল ডেল স্টেইনকে নিয়ে। প্রোটিয়া এই পেসার এর আগে আইপিএলে সবশেষ ম্যাচ খেলার সময় কোহলির টেস্ট অভিষেক হয়নি। দীর্ঘ ৯ বছর পর আজ আইপিএলে খেলতে নেমেই আরসিবিকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন "স্টেইন গান"। কলকাতার ইনিংসে প্রথম ওভারে বল করতে এসে প্রথম বলেই তুলে নিতে পারতেন ওপেনার ক্রিস লিনকে। স্লিপে তাঁর ক্যাচ ফেলেন মার্কাস স্টয়নিস। ডেল স্টেইনকে অবশ্য বেশি দেরি করতে হয়নি। ওই ওভারের শেষ বলেই লিনকে কোহলির ক্যাচে পরিণত করেন এই পেসার।

চতুর্থ ওভারে সুনীল নারাইনকে (১৮) তুলে নেন আরসিবির আরেক পেসার নভদ্বীপ সাইনি। ঠিক তাঁর পরের ওভারেই শুভমান গিলকে স্লিপে কোহলির ক্যাচে পরিণত করেন ডেল স্টেইন। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে কোহলির সেঞ্চুরি আর কলকাতার ইনিংসে সেই কোহলির সহায়তায় ডেল স্টেইনের "স্টেইন গান" হয়ে ওঠা—মূলত এই দুইয়ের সম্মিলনেই জয়ের ভিত গড়ে ফেলে আরসিবি। তবে শঙ্কা জেগেছিল। রবিন উথাপ্পার ২০ বলে ৯ আর গিলের ১১ বলে ৯ লড়াইয়ের পথ থেকে ছিটকে ফেলেছিল কলকাতাকে। চতুর্থ উইকেটে রাসেল ও নীতিশ রানার ৪৮ বলে ১১৮ রানের ঝোড়ো জুটিতে কলকাতা কিন্তু জয়ের সুবাসও পেয়েছে।

১৫তম ওভারে চাহালকে টানা তিন ছক্কা মেরে ঝড়ের শুরু করেছিলেন রাসেল। ওই ওভারে ২০, পরের ওভারে ১৭ এবং তার পরের ওভারে ১৫ রান তুলেছে রাসেল-রানা জুটি। এতে শেষ তিন ওভারে লক্ষ্য নেমে আসে ৬১ রানে। ১৮তম ওভারে স্টেইন এসে ১৮ রান দেওয়ায় শেষ দুই ওভারে ৪৩ রান দরকার ছিল কলকাতার। স্টয়নিসের করা ১৯তম ওভার থেকে ১৯ রান তুলে নেয় রাসেল-রানা জুটি। দুজনের অবিশ্বাস্য পাওয়ার হিটিংয়ে শেষ ওভারে এসে জমে যায় ম্যাচ। জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে দরকার ২৪ রান। এই শেষ ওভারে স্পিনার মঈন আলীকে বল তুলে দিয়ে আরও নাটকীয়তার জন্ম দেন আরসিবি অধিনায়ক কোহলি।

শেষ ওভারে ১৩ রান দিয়ে রাসেলকে তুলে নেন মঈন। ৯ ছক্কা ও ২ চারে ২৫ বলে ৬৫ রান করা রাসেল কী অবিশ্বাস্য ইনিংসটাই না খেললেন! অন্য প্রান্তে নীতিশ রানাও কম যাননি। ৫ ছক্কা ও ৯ চারে ৪৬ বলে ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন এই বাঁহাতি। দুজনের আক্ষেপ থাকবে লড়াই থেকে ছিটকে পড়ার পর জয়ের পথে ফিরেও তাঁরা জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি!

 

Facebook Comments

" ক্রিকেট নিউজ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ