Foto

কাশ্মীরে সড়ক বন্ধ করে চলছে ভোট


ভারতে লোকসভা নির্বাচনে জম্মু ও কাশ্মীর মহাসড়ক বন্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আজ বৃহস্পতিবার এমন পরিস্থিতির মধ্যেই কাশ্মীরের ছয়টি লোকসভা আসনের দুটিতে ভোট হচ্ছে। এদিকে সাধারণ পরিবহন বন্ধ থাকায় বিপাকে স্থানীয় বাসিন্দারা।


আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পরে বাহিনীর কনভয় চালানোর জন্য ৩১ মে পর্যন্ত রোব ও বুধবার জম্মু-শ্রীনগর সড়কের বড় অংশ সাধারণ পরিবহনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যপালের প্রশাসন।

তবে সড়ক বন্ধের সময় অতি জরুরি যোগাযোগের জন্য হাতের তালুতে সীল মারার মাধ্যমে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে অনেককেই।

এদিকে রাজ্য প্রশাসনের নিয়মকে তোয়াক্কা না করে সোমবারও জম্মু-শ্রীনগর সড়কে কনভয় চালিয়েছে সেনা। কিন্তু তাতে বদলায়নি নিয়ম। বিভিন্ন এলাকা থেকে সড়কে ওঠার লিঙ্ক রোড বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। বসেছে কাঁটাতার। নানা এলাকায় সেই কাঁটাতারের কাছে বাহিনীর সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়াতে দেখা গিয়েছে বাসিন্দাদের।

সড়ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের আজ সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান বেদপ্রকাশ মালিক। তার বক্তব্য, "এটা বোকামি। এই পদক্ষেপে সেনার তরফে কাশ্মীরিদের মন জয়ের যে চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে চলছে তা ব্যর্থ হয়ে যাবে। স্থানীয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করে ও সুরক্ষা বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে।"

ভোটের দিন সড়ক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন প্রাক্তন আমলা, প্রাক্তন সামরিক কর্তা, শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট জনেদের একটি দল। দলটির সব সদস্যই কর্মসূত্রে কাশ্মীরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

সড়ক বন্ধ নিয়ে এদিন বি রাজ্যপালের প্রশাসনের পাশে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তারা জানায়, ৩১ মে পর্যন্ত সপ্তাহে দুদিন ১২ ঘণ্টা করে সড়ক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু ওই সড়ক স্থানীয়দের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে কিছু শিবির।

সূত্রের খবর, লোকসভা ভোটের বাহিনীর চলাচল অনেক বেড়েছে। তাই ৩১ মে পর্যন্ত সপ্তাহে দুদিন সড়ক বন্ধ রাখা হচ্ছে। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের দায়িত্বে থাকা সেনার ১৫ নম্বর কোরের দাবি, সড়ক বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের কিছু জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পরিবহন দপ্তর এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য জানতে চেয়েছে জম্মু-কাশ্মীর হাইকোর্ট। ১৯ এপ্রিল ফের শুনানি।

লোকসভা ভোটের প্রথম দফায় জম্মু-কাশ্মীরের জম্মু ও বারামুলা কেন্দ্রে ভোট। ২০১৪ সালে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা মদনলাল শর্মাকে হারিয়ে জম্মু কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিজেপি নেতা যুগল কিশোর।

রাজনীতিকদের মতে,এবার তুলনামূলকভাবে কঠিন পরীক্ষার মুখে যুগল। কারণ কংগ্রেস প্রার্থী রমন ভাল্লাকে সমর্থন করছে ন্যাশনাল কনফারেন্স। প্রার্থী দেয়নি পিডিপি। বারামুলা কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পিডিপি-র আব্দুল কায়ুম মির, ন্যাশনাল কনফারেন্সের মহম্মদ আকবর লোন। ভোট বয়কটের দাবিতে হরতাল ডেকেছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা।

কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের বেশিরভাগ বুথে বুধবার ভোটগ্রহণ শুরুর দু"ঘণ্টা আগে থেকে সাধারণ মানুষের লাইন পড়েছে ভোটদানের জন্য। নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরে সকাল সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। কোথাও কোথাও ইভিএম খারাপ থাকার জন্য ভোটগ্রহণ শুরু হতে দেরি হয়েছে। এ নিয়ে কোচবিহারের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ইভিএম-এ কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জেলাশাসককে পুরো বিষয়টি ফোনে জানিয়ে অভিযোগ করেন।

 

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ