Foto

কাপ জয়ের পর ড্রেসিংরুমে ফরাসিদের উচ্ছ্বাসের মন ভাল করা মুহূর্তগুলো


এই প্রথমবার ফ্রান্স ফুটবল দল বিদেশ থেকে বিশ্বকাপ জিতেছে। 1998 বিশ্বকাপটা জিদানরা নিজেদের দেশের মাটিতেই জিতেছিলেন। 20 বছরের অপেক্ষা শেষে ফের বিশ্বকাপ জয়। গত দুটো বড় টুর্নামেন্টে দারুণ খেলে ফাইনালে উঠেও হারের পর ফরাসিদের হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল। 2006 বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির কাছে হারে জিদানের ফ্রান্স। তারপর 2016 ইউরো কাপে নিজেদের দেশের মাটিতে ফাইনালে রোনাল্ডোর পর্তুগালের কাছে হার মানে ফরাসিরা।


গতকাল, রবিবার মস্কোয় ফাইনাল নিয়ে তাই গ্রিজম্যান-পোগবাদের মধ্যে একটা চাপা সংশয় তো ছিলই। আসলে ফাইনালে হারের রেকর্ডটা এমন যা সব সময় খোঁচা দেয়। অনেকেই বলেন 2010 দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে এক্সট্রা টাইমে গোল খেয়ে নেদারল্যান্ডসের হারটা নাকি অতীতে দু বার বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের মানসিক চাপের ফসল। তবে সব সংশয় ঝেড়ে ক্রোয়েশিয়াকে 4-2 গোলে হারিয়ে ফ্রান্স তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপটা জিতে নিল। ড্রেসিংরুমে ফিরে গ্রিজম্যান-এমবাপে-পোগবা-রা করলেন গ্র্যান্ড সেলিব্রেশন। কোচ দেশঁও যোগ দিলেন পার্টিতে।
1998 বিশ্বকাপের ফাইনালেও এমন একটা চ্যাম্পিয়ন পার্টির নেতৃত্বে ছিলেন সেই সময়ের অধিনায়ক দেশঁ। ফরাসি ফুটবলাররা গানও ধরেন। আজই দেশে ফিরছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সবচেয়ে বড় সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্ততি সেরে ফেলেছ ফ্রান্স সরকার ও সে দেশের ফুটবল ফেডারেশন। এই প্রথমবার ফ্রান্স ফুটবল দল বিদেশ থেকে বিশ্বকাপ জিতেছে। 1998 বিশ্বকাপটা জিদানরা নিজেদের দেশের মাটিতেই জিতেছিলেন।

একেবারে নাটকীয় ফাইনাল। আত্মঘাতী গোল থেকে পেনাল্টি গোল। গোলকিপারের মারাত্মক ভুলে গোল। সবই হল মস্কোর লুঝিনিকি স্টেডিয়ামে মায়াবী আলোর তলায় বিশ্বের সেরা ফুটবল ম্যাচে। তবে শেষ হাসি হাসল ফ্রান্স-ই। জিদানের পর গ্রিজম্যান দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিলেন। ভিয়েরার পর পোগবা আইফেল টাওয়ারের দেশকে ফুটবল বিশ্বে আরও উচ্চতা এনে দিলেন। উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনার মত দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতল ফ্রান্স। লুঝনিকি স্টেডিয়ামে 4-2 গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল ফ্রান্স। 1998-র পর 2018 বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হল ফরাসিরা। অন্যদিকে, ভাগ্যের পরিহাসে রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল ক্রোটদের। যদিও ম্যাচ হারলেও, হৃদয় জিতল মাত্র 42 লক্ষের ছোট্ট এই দেশ।

অন্যদিকে, 1998 বিশ্বকাপে অধিনায়ক হয়ে দেশকে কাপ জেতানোর পর, এবার কোচ হিসেবে ফ্রান্সকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করে ইতিহাসের খাতায় পাকাপাকিভাবে নাম লেখালেন দিদিয়ের দেশঁ। পুরো বিশ্বকাপেই অসাধারণ খেলে চ্যাম্পিয়ন হল ফ্রান্স। যদিও ফাইনালে ভাগ্যের সহায়তা পেল ফ্রান্স। আত্মঘাতী গোল, পেনাল্টি গোল দুটিতেই ভাগ্য সঙ্গ দিল শিল্পীর দেশ ফ্রান্সকে। 1-4 গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ফ্রান্স গোলকিপার লরিসের মারাত্মক ভুলে খেলায় ফিরে আসার চেষ্টা করেছিল ক্রোটরা। কিন্তু নক আউটে পরপর তিনবার পিছিয়ে থেকে জিতে ফাইনালে ওঠা ক্রোটরা আজ পারলেন না। ম্যাচের 59 ও 65 মিনিটে পরপর দুটো গোল খেয়ে সেখানেই ম্যাচ হেরে বসে ক্রোয়েশিয়া। 59 মিনিটে পোগবা, তারপর 65 মিনিটে এমবাপের গোল। 2-1 থেকে 4-1 হয়ে যায় ম্যাচের ফল। তবে 4-1 হয়ে যাওয়ার পর 69 মিনিটে ফরাসি গোলকিপার লরিসের ভুলে ম্যাচের ফল 4-2 হওয়ার পর ক্রোটদের ফিরে আসার একাট আশা জেগেছিল। যদিও বিশ্বকাপ ফাইনালের মত মঞ্চে দু গোল পিছিয়ে থেকে ম্যাচ বের করা খুব খুব কঠিন হয়ে যায়। সেটাই হল...আইফেল টাওয়ারে আজ আরও আরও উজ্জ্বল হয়ে গেল।

ম্যাচের 18 মিনিটে মারিও মান্দুজুকিচের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। দশ মিনিট পর ইভান পেরেসিচের গোলে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু আবার দশ মিনিট পরে আসে সেই নাটকীয় মোড়। এই মোড়টাই হয়তো বিশ্বকাপ জয়ের রাস্তাটা ঠিক করে দিল। পেনাল্টি বক্সে ক্রোট ফুটবলার পেরেসিচের বল হাতে লাগায় রেফারি ভার-এর সাহায্য নেন। অনেকদিক বিবেচনা করে আর্জেন্টিনার রেফারি পিতানা ফ্রান্সকে পেনাল্টি দেন। পেনাল্টি থেকে গ্রিজম্যান ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন। বিরতিতে খেলা শেষ হয় 2-1। তারপর 59 মিনিটে পোগবার দুরন্ত গোল। 6 মিনিট পরেই এমবাপে ফের এগিয়ে দেন ফ্রান্সকে।

Facebook Comments

" ওয়ার্ল্ড কাপ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ