Foto

ওয়েব সিরিজের পরিচালক তৌকীর


কয়েক বছর ধরে তৌকীর আহমেদ তাঁর পরিচালিত ছবি নিয়ে দেশের বাইরের বিভিন্ন উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। দেশের জন্য এনেছেন অনেক সম্মাননা। এবার এই অভিনেতা ও নির্মাতা ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করেছেন। ওয়েব সিরিজটি প্রযোজনা করেছে ভারতের শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি চারটি ওয়েব সিরিজ বানাচ্ছে।


এর মধ্যে তিনটির পরিচালক ভারতের, আর চতুর্থ ছবিটি পরিচালনা করছেন বাংলাদেশের তৌকীর আহমেদ। তাঁর ছবির নাম ‘বিরহ উত্তর’। এই ছবিতে অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম।


আধুনিক সম্পর্ক ও বাস্তবতার গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘বিরহ উত্তর’। উত্তরা, পুরান ঢাকা, শীতলক্ষ্যা নদী, কীর্তনখোলা নদী, রাজেন্দ্রপুরের নক্ষত্রবাড়িতে এই ওয়েব সিরিজের শুটিং করেছেন তৌকীর আহমেদ। সপ্তাহ খানেক আগে এই সিরিজের শুটিং শেষ হয়েছে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে এটি প্রচারিত হবে। বাংলাদেশের তৌকীর আহমেদকে দিয়ে ওয়েব সিরিজ বানাতে শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস থেকে মাস চারেক আগে যোগাযোগ করা হয়। শুরুতে প্রকল্পটি নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন তৌকীর। বললেন, ‘ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের পক্ষে অর্ক গাঙ্গুলি নামের একজন পরিচালক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর আরও কয়েক দফা আলোচনা হয়। তারপর ওয়েব সিরিজটি নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। বাংলাদেশের সিনেমা এখন ভারতেও প্রদর্শিত হয়। এমনকি বিশ্বের বড় বড় সব উৎসবেও বাংলাদেশের সিনেমা সম্মান বয়ে আনছে। এসব উৎসবে ভারতের সিনেমাও প্রদর্শিত হয়, সেখানর উপস্থিত থাকেন সেসব ছবির পরিচালক আর কলাকুশলীরা। তৌকীর আহমেদ ধারণা করছেন, হয়তো তেমনি কোনো উৎসবে কাজ দেখে বাংলাদেশের পরিচালক দিয়ে ওয়েব সিরিজ বানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।‘বিরহ উত্তর’ ছবিতে মম ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন রওনক হাসান ও আবুল হায়াত। তৌকীর এখন থেকে নিয়মিত ওয়েব সিরিজ বানানোর পরিকল্পনা করছেন। প্রথমটি বানানোর অভিজ্ঞতাও বেশ ভালো। বললেন, ‘দেশের বাইরের প্রযোজককে মনে হয়েছে অনেক পেশাদার ও সিস্টেমেটিক। আরেকটা কথা, টেলিভিশনে এখন কাজের সুযোগ এবং রসদ কমে গেছে। বাজেট, সময়, বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে অনেক বিধি-নিষেধও থাকে। সেই হিসাবে টেলিভিশনে কাজ করতে আমাদের উৎসাহ কমেছে, সুযোগও নেই।’

তৌকীরের পরিচালনায় ওয়েব সিরিজে কাজের অভিজ্ঞতা মমর জন্য আনন্দের। তবে প্রোডাকশনটি যে বাইরের দেশের, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই তাঁর। নেপাল থেকে প্রথম আলোকে মম বলেন, ‘এই প্রকল্পে আমার তো তৌকীর ভাই ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়েনি। আমি মনে করি, তাঁর মতো নির্মাতার কাজ করতে পারার আনন্দই আলাদা। তিনি আমার মেন্টর। আমার জীবনের প্রথম সিনেমা “দারুচিনি দ্বীপ”। তার পরিচালকও তিনি।’

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে ওয়েব সিরিজের আলাদা একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বায়োস্কোপ ও আইফ্লিক্স।

তৌকীর এখন ব্যস্ত ‘ফাগুন হাওয়া’ সিনেমার শেষ পর্যায়ের কাজ নিয়ে। জানালেন, এখন ছবিটির সাউন্ড ডিজাইন ও আবহসংগীতের কাজ চলছে। নতুন বছর ফেব্রুয়ারিতে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার ইচ্ছা তাঁর।