Foto

এমপি পদ থাকার প্রশ্নে ইসির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত


একাদশ জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও ১৪ দলের বাইরে বিরোধী দল ঐক্যফ্রন্ট থেকে ৮ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপি থেকে ৬ জন আর গণফোরাম থেকে দুই জন নির্বাচিত হন।


ঐক্যফ্রন্ট ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের নির্বাচিত সদস্যরা সংসদে যাবেন না, শপথ নেবেন না। তবে সংকট দেখা দিয়েছে মৌলভীবাজার-২ আসনে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ডাকসুর ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে নিয়ে। তিনি এর আগে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।

সুলতান মনসুর ইতিমধ্যে সংসদে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি এবার গণফোরাম থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদে গেলে তার সদস্য পদ থাকবে কি থাকবে না ?

এ বিষয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ’কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।

তবে প্রশ্নটি চূড়ান্ত অর্থে ইসি নির্ধারণ করবে। কারণ, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ বলেছে, এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হইবে কি না, সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।’

সংসদ সদস্য হওয়ার বা সদস্য পদ হারানো সম্পর্কিত অযোগ্যতার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) ধারায় বলা আছে, যদি সংশ্লিষ্ট কেউ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত না হন বা একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী না হন।

তবে উল্লেখ করা যেতে পারে দশম সংসদের টাঙ্গাইল-৪ আসনের এমপি ও তত্কালীন মন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী শৃংখলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে দল থেকে বহিস্কৃত হন। তার এই বহিস্কারের চিঠি স্পিকারের কাছে আওয়ামী লীগ হস্তান্তর করে। স্পিকার বিষয়টির নিস্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠান।

এমপি লতিফ সিদ্দিকী এই মর্মে হাইকোর্টে রিট করেন যে, কমিশনের এ বিষয়ে শুনানির এখতিয়ার নেই। হাইকোর্ট সেই রিট খারিজ করে দিলে তিনি আপিল বিভাগের দারস্থ হন। আপিল বিভাগও রিট খারিজ করে দেয়। ইসির শুনানির আগেই ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর লতিফ সিদ্দিকী সংসদে ১৫ মিনিট ধরে বক্তব্য দেওয়ার সময় পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং স্পিকারের কাছে পদত্যাগ পত্র দেন। স্পিকার তার পদত্যাগপত্র গ্রহন করলে তার এমপি পদ শুন্য হয়।

সুলতান মনসুরের ক্ষেত্রে সুবিধা যেমন আছে বড় বিপদও রয়েছে। সুবিধার দিক হচ্ছে, তিনি গণফোরামের সদস্যপদ গ্রহন করেননি। তবে বিপদ হচ্ছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা প্রত্যায়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। মির্জা ফখরুল ইসলামের ভূমিকাও বড় হবে তার সদস্য পদ থাকা না থাকার বিষয়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হুসেইন ইত্তেফাককে বলেন, গণফোরামের মনোনয়ন নিয়ে জোটবদ্ধভাবে সুলতান মনসুর ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। ঐক্যফ্রন্ট সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ শপথ নিয়ে সদস্য পদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে।

সংবিধান ও আরপিওতে সদস্য হওয়ার যোগ্যতায় নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বা জোট কিংবা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের সুযোগ আছে। ভিন্ন কোন পথ নেই। তাই দল , জোট বা ফ্রণ্ট যদি তাকে বহিস্কার করে তবে তার সদস্য পদ আইনি প্রশ্নের মুখে পড়বে।

আরেক সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে যতক্ষণ স্পিকার নির্বাচন কমিশনের নোটিশে বিষয়টি না আনবেন ততক্ষণ কমিশনের কিছু করার নেই।

বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট রোকন উদ্দীন মাহমুদকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ