Foto

এবার ঢাকায় প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম নিলেন কবরী


নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা নয়, এবার ঢাকার গুলশান-ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সংসদ সদস্য হতে চান অভিনেত্রী কবরী সারোয়ার। নবম জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া কবরী শনিবার ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। দুপুরে তিনি নিজেই ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।


পরে কবরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অভিনেত্রী হলেও আমি যে মাঠে-ময়দানের মানুষ, আমি আমজনতার মানুষ! দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে এবার আবারও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হলাম।”

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে এবার জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলে অবহেলিত বাংলা সিনেমা ও সাহিত্য নিয়ে আরো বেশি কাজ করার আশা প্রকাশ করেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়ে খ্যাত এই অভিনেত্রী।

মানুষের কাছাকাছি থেকে তাদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া কবরী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধেও কাজ করতে চান।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর আরও অনেকের মতো পালিয়ে ভারতে চলে যান কবরী। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনের কাজেও যুক্ত হন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরাসরি মূল ধারার রাজনীতিতে না এলেও নানাভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক কবরী ১৯৯২ সালে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধের বিচারে জনমত গঠনে যুক্ত ছিলেন। বিচারপতি সোবহান, ড. নীলিমা ইব্রাহীমের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা প্রতিষ্ঠার কাজেও ছিলেন তিনি।

কবরী এখন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি।

এর আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কবরী জানিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর প্রায় পৌনে ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা যখন দেশে ফিরলেন, তখনই মূলধারার রাজনীতিতে আসার ইচ্ছাটা তার ভেতরে দানা বাঁধতে শুরু করে।

তবে ভোটের মাঠে নামার সুযোগটা তার সামনে আসে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়। আওয়ামী লীগ সভনেত্রী শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নৌকার টিকেট তুলে দেন কবরীর হাতে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন ওসমান পরিবারের এক সময়ের বধূ কবরী।

এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। বিএনপির বর্জনের মধ্যে ওই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। কবরীও আর পুরনো নির্বাচনী এলাকায় খুব একটা যান না।

ঢাকার গুলশানে যে এলাকায় কবরী থাকেন, তা পড়েছে ঢাকা-১৭ আসনের অধীনে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) নেতা এস এম আবুল কালাম আজাদ গত নির্বাচনে ওই আসনের এমপি নির্বাচিত হন।

এবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও এই আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

 

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ