Foto

একজন শিল্পী যেভাবে আয় গণনা করবেন


যে কোনো শিল্প মাধ্যমে কাজের বিনিময়ে আয় যদি করযোগ্য হয় তবে আয়কর বিবরণী দাখিল করতে হবে। তবে একজন শিল্পী প্রতিদিন কাজ করে যে আয় করছেন তা থেকে কীভাবে করযোগ্য আয় বের করবেন? অন্যান্য পেশাজীবী যেমন- চাকরিজীবীরা কীভাবে করযোগ্য আয় বের করবেন তা বিস্তারিতভাবে আয়কর আইনে বলা হয়েছে। প্রতি বছর ব্যক্তি করদাতাদের রিটার্ন দাখিলকে সামনে রেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়কর নির্দেশিকা বের করে। সেখানে একজন শিল্পী কীভাবে আয় ও কর পরিগণনা করবেন তা একটি উদাহরণ দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।


সেই আলোকেই আজকে আমরা একজন শিল্পীর আয় ও কর গণনা করবো।

ধরা যাক রুমেলা হক একজন কন্ঠশিল্পী। তিনি নিজে এককভাবে বিভিন্ন গানের অনুষ্ঠানে গান করেন। সেখান থেকে তিনি তার নির্ধারিত পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন।

তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য কিছু ড্রেস কেনেন এবং আসা যাওয়া বাবদ যাতায়াত খরচ হয়। এই খরচগুলো তিনি আয় থেকে বাদ দিয়ে তার করযোগ্য আয় বের করবেন।

এককভাবে গান করার পাশাপাশি তিনি দলীয়ভাবেও গান করেন। সারা বছর ধরেই দেশে বিদেশে তার স্টেজ শো থাকে। সেখান থেকে তার আয়ের বড় একটি অংশ আসে।

তার দলে যারা যন্ত্রশিল্পী আছেন তাদের তিনি মাসিক ভিত্তিতে বেতন দেন। প্রতিটা স্টেজ শোর জন্য তারা আলাদা আলাদা ড্রেস কেনেন। এগুলো পরেই তারা স্টেজ শো করেন।

এর বাইরে যাতায়াত বাবদ তাদের খরচ হয়। স্টেজ শো করে যে আয় করেন তা থেকে যন্ত্রশিল্পীদের বেতন, ড্রেস এবং যাতায়াত খরচ বাদ দিয়ে রুমেলা হক তার করযোগ্য আয় বের করবেন।

কেউ কেউ হয়ত মাসিক বেতন না দিয়ে প্রতি স্টেজ শো ভিত্তিক যন্ত্রশিল্পীদের পারিশ্রমিক দিয়ে থাকেন। তখন সে ভিত্তিতেই তিনি তার করযোগ্য আয় বের করবেন।

তবে এখানে মনে রাখতে হবে, সারা বছর গান গেয়ে যে পরিমাণ আয়ই করেন না কেনো তা থেকে যে খরচগুলো বাদ দেবেন তার খরচের কাগজ থাকতে হবে।

যেমন- আপনি যদি গাড়ি ভাড়া করেন তাহলে যে রেন্ট-এ-কার থেকে ভাড়া নিয়েছেন সেখান থেকে একটি বিল নিয়ে রেখে দেবেন। রিটার্ন দেওয়ার সময় কাজে দেবে।

যারা গান ছাড়া অন্য শিল্প মাধ্যমে জড়িত তারা একইভাবে তাদের আয় থেকে খরচগুলো বাদ দিয়ে করযোগ্য আয় বের করবেন।

রুমেলা হকের করযোগ্য আয় বের হয়ে গেলে তার উপর নির্দিষ্ট হারে কর দায় বের করতে হবে।

রুমেলা হক যেহেতু মহিলা করদাতা তাই তার কর শুরু হবে তিন লাখ টাকার পর থেকে। যেটা পুরুষ করদাতার ক্ষেত্রে আড়াই লাখ টাকা।

কর দায় বের হয়ে গেলে তা থেকে কর রেয়াত এবং যদি কোথাও আয় থেকে উৎসে কর কর্তন করা হয়ে থাকে তাহলে সেই কর বাদ দিয়ে নীট করদায় বের করতে হবে।

আয় থেকে যেখানেই উৎসে কর কর্তন করবে সেখান থেকে অবশ্যই চালান সংগ্রহ করতে হবে। রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় প্রমাণ হিসেবে এই চালানের কপি জমা দিতে হয়। এই চালান ছাড়া উৎসে যে কর দিয়েছেন তা দাবি করা যাবে না।

এই নীট কর দায় রুমেলা হক যখন রিটার্ন জমা দেবেন তখন অন্যান্য দরকারী কাগজপত্রের সঙ্গে পে অর্ডার/ চালান/ চেক দিয়ে জমা দিলেই তার রিটার্ন দাখিল হয়ে যাবে।

লেখক: জসীম উদ্দিন রাসেল। পেশা: চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট।

Facebook Comments

" লাইফ স্টাইল " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ