Foto

এই সংঘাত আঞ্চলিক উদ্বেগের কারণ হবে


ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বৈরিতার যে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বর্তমানে যে অবস্থা তা তীব্র পর্যায়ে চলে গেছে। দুই দেশই একে অপরের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বোমা নিক্ষেপ করেছে। ইতিহাস বিশ্নেষণে দেখা যায়, আকাশসীমা লঙ্ঘনের এ ধরনের ঘটনা ১৯৭১ সালে ওই সেক্টরে যে যুদ্ধ হয়েছিল, তারপর থেকে আর দেখা যায়নি। পরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কারগিলের যে যুদ্ধ হয়েছিল, সে সময়ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা দেখা যায়নি।


ফলে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দুই দেশের বিমানবাহিনীর একে অপরের আকাশসীমা লঙ্ঘনের এই ঘটনা বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হতে পারে। দুই দেশের ভেতরে যে ধরনের আক্রমণাত্মক মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা এমন আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে যে, এখন যে ছোট এলাকার মধ্যে সংঘাত সীমাবদ্ধ আছে তা আরও বড় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে আমরা মনে করছি, যদি সংঘাতটা পুরোমাত্রায় ছড়িয়ে যায়, তাহলে যে শুধু দুই দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে তা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের হুমকির সৃষ্টি করবে।

যেহেতু বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে অবস্থান করছে, তার ফলে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর বড় কোনো বিরূপ প্রভাব পড়লে তার অংশীদার আমরাও হবো। এখানে আমাদের আরও কয়েকটি উদ্বেগের বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কারণ ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘ সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই দুই দেশ বিশ্বের বৃহৎ সশস্ত্র বাহিনীর দেশের তালিকাতেও অন্তর্ভুক্ত। একই সঙ্গে দেশ দুটি পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতিতে সামরিক ক্ষেত্রে যে স্ক্যালেশন ল্যাডার বা তীব্রতা বৃদ্ধির সোপান থাকে, তা সবসময় নিয়ন্ত্রণে নাও থাকতে পারে। ছোটখাটো ব্যাপারও যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে তিক্ততা বৃদ্ধি থেকে এই স্ক্যালেশন ল্যাডার অতিক্রম করে তা অনেক বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। যেহেতু এ দুই দেশেরই বড় আকারে সশস্ত্র বাহিনী আছে এবং একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত, সেহেতু সংঘাত বড় আকারে ছড়িয়ে পড়লে তার ভয়াবহতার মাত্রাও ব্যাপক হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এই দ্বিপক্ষীয় সংঘাতে আর্ন্তজাতিক কোনো পক্ষের যুক্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না এবং তা দুই দেশের পারস্পরিক সংঘাত হিসেবে সীমাবদ্ধ আছে।

এ সংঘাত বাড়ূক- সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ কারণে এখনই এ উদ্বেগ নিরসনে কী করা যেতে পারে, সেটা ভাবতে হবে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কীভাবে উত্তেজনা প্রশমন করা যায়, সেটি জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে হবে। তিক্ততা ও সংঘাত নিরসনের জন্য দুই দেশের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও আস্থা বাড়ানোর যে কৌশল বা সিবিএম ম্যাকানিজম আছে, তা জরুরি ভিত্তিতে সক্রিয় করতে হবে। আমাদের জানামতে, তাদের মধ্যে সিবিএম ম্যাকানিজম আছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কতটা কাজ করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আমরা জানি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশের সুনাম রয়েছে। এ কারণে আমার মত হচ্ছে, আঞ্চলিত পর্যায়ে এই বৈরী ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ