Foto

উইন্ডিজকে যন্ত্রণা ফিরিয়ে দেওয়ার সিরিজ


৪৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার স্বাদ কাঁটা হয়ে বিদ্ধ করে এখনও। গতি আর বাউন্সে নাকাল হওয়ার স্মৃতিও বেশ তরতাজা। গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যে দুঃসহ অভিজ্ঞতা হয়েছিল, সেই হিসাব চুকানোর সুযোগ বেশ দ্রুতই পাচ্ছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানের চাওয়া, নিজেদের কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে তার দল ক্যারিবিয়ানদের ফিরিয়ে দিবে একই রকম যন্ত্রণা।


পাঁচ মাস আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করে আসা বাংলাদেশ এবার ক্যারিবিয়ানদের পেয়েছে নিজেদের আঙিনায়। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি চট্টগ্রামে শুরু বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায়।

আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের তলানির দিকে দুই দলের অবস্থান পিঠাপিঠি। শক্তি-সামর্থ্যের ব্যবধানও খুব একটা নেই। কিন্তু সবশেষ মুখোমুখি লড়াইয়ে স্রেফ উড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল কন্ডিশন। নিজেদের শক্তির জায়গা পেস বোলিংকে কাজে লাগাতে গতিময় ও বাউন্সি উইকেট বানিয়ে ক্যারিবিয়ানরা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। দুটি টেস্টই শেষ হয়েছিল তিন দিনে।

এবার বাস্তবতা ঠিক উল্টো। কন্ডিশন চ্যালেঞ্জ জানাবে ক্যারিবিয়ানদের। টেস্ট শুরুর আগের দিন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব ইঙ্গিত দিয়েছেন, উইকেটে যথেষ্টই ঘুরবে বল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটেরও মনে হয়েছে, উইকেট মন্থর ও শুষ্ক। এই স্পিন মঞ্চে ক্যারিবিয়ানদের কুপোকাত করবে বাংলাদেশ, আশা সাকিবের।

“আমাদের র‌্যাঙ্কিংয়ের পজিশন খুব কাছাকাছি। তাই ওরা যেমন ওদের ঘরের মাঠে ভালো করতে পেরেছে, স্বাভাবিকভাবে আমাদেরও লক্ষ্য থাকবে ওইরকমই ভালো করি এখানে। আমি তো আশাবাদী, পুরো দলও মনে করে ওদের সাথে ভালো করা সম্ভব। সেই বিশ্বাসটা সবার ভেতরে আছে। যেহেতু দুই দলে র‌্যাঙ্কিংয়ে আট-নয়ে, আমি মনে করি এই সিরিজটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা ভালো করব।”

জিম্বাবুয়ে ছাড়া বাংলাদেশ একাধিক টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই। তবে সেই দুই জয়ের একটিও দেশের মাটিতে নয়। দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬ টেস্ট খেলে ৫টিই হেরেছে বাংলাদেশ, ড্র একটি।

তবে গত কয়েক বছরে টেস্টেও ঘরের মাঠে উন্নতির যে ছাপ রেখেছে বাংলাদেশ, সেটিই এবারের বিশ্বাসের মূল ভিত্তি। স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে টেস্ট জিতেছেন সাকিবরা, ড্র করেছেন সিরিজ। মানসম্পন্ন স্পিনে দুর্বল ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষেও তাই আশা দারুণ কিছুর।

সংশয়টা অবশ্য বেশি প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেদের নিয়েই। কন্ডিশনের ফায়দা নিজেরা কতটা নিতে পারবে দল। সদ্য সমাপ্ত জিম্বাবুয়ে সিরিজে স্পিনাররা যথারীতি দারুণ করলেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় বাংলাদেশ হেরেছিল সিলেট টেস্ট। পরে মিরপুর টেস্টে বড় জয়ে সিরিজ ড্র করতে পেরেছিল। তবে জিম্বাবুয়ের চেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ আরও চ্যালেঞ্জিং হবে, নিশ্চিত সাকিব।

“অবশ্যই একটু বেশি চ্যালেঞ্জিং (এই সিরিজ)। যদিও আমরা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে প্রথম টেস্টে খুব ভালো করিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে, এইটুক আমি একশভাগ নিশ্চিত। সেটা বোলিং, ব্যাটিং হোক বা মানসিক, তিনটি দিকেই মনে হয় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে আমরা এমন চ্যালেঞ্জ নিতে অভ্যস্ত, এটাও আমি মনে করি।”

Facebook Comments

" ক্রিকেট নিউজ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ